সর্বশেষ
আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমি দখলের চেষ্টা, দুই ভাইকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ; টিনের বেড়া স্থাপনের পর ঘটনাস্থলে পুলিশ ভিউয়ের নেশায় সামাজিক অবক্ষয়: শিশুদের ভবিষ্যৎ কি কনটেন্ট ব্যবসার বলি হচ্ছে? জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার নতুন নেতৃত্বকে মহানগর কোর কমিটির অভিনন্দন সিএমপির ওপেন হাউজ ডেতে নাগরিকদের অভিযোগ শুনলেন কমিশনার, মিলল তাৎক্ষণিক সমাধান দশ বছর পর জবিতে মঞ্চ মাতালেন নগরবাউল জেমস যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, দুই নার্সকে অব্যাহতির নির্দেশ বিজয়নগরে বিজিবির অভিযান, ভারতীয় কাপড়ভর্তি কাভার্ড ভ্যান আটক শেরপুরে পাঁচ দিনব্যাপী বই মেলা উদ্বোধন হয়েছে, গোয়ালবাড়ীতে চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম আহমদের সমর্থনে মতবিনিময় সভা

ভিউয়ের নেশায় সামাজিক অবক্ষয়: শিশুদের ভবিষ্যৎ কি কনটেন্ট ব্যবসার বলি হচ্ছে?

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ০২:১৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

 

 

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক মানুষের জন্য বিনোদন, মানসিক প্রশান্তি এবং অবসর কাটানোর একটি মাধ্যম। কেউ পারিবারিক দুশ্চিন্তা, ব্যক্তিগত হতাশা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসেন। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন ভিউ, লাইক, শেয়ার ও অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা জরুরি।

বিশেষ করে তথাকথিত কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমাজের সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ এমন সব কনটেন্ট তৈরি করছেন, যা শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রতি আগ্রহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সব কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে একইভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। অনেকেই শিক্ষামূলক, সচেতনতামূলক ও মানবিক কনটেন্ট তৈরি করে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। তবে একটি অংশের কনটেন্টে অশালীনতা, অপ্রয়োজনীয় অভিনয়, অর্থহীন প্রতিযোগিতা এবং সাময়িক জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা প্রশ্নবিদ্ধ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ছোট ছোট শিশুদেরও অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্ট তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে ক্যামেরার সামনে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একটি প্রজন্মকে দক্ষ, শিক্ষিত, কর্মক্ষম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে যদি ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার সংস্কৃতি তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি শুধু বিনোদন ও অর্থ উপার্জনের বাজার হয়ে থাকবে, নাকি এটি জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হবে?

কনটেন্ট তৈরি অপরাধ নয়, ভিউ অর্জনও অপরাধ নয়। কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় শিশুদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মমুখী মানসিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই প্রবণতার সমালোচনা হওয়া প্রয়োজন।

ভিউ সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু একটি শিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎই পারে একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে। তাই কনটেন্টের স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভিউয়ের নেশায় সামাজিক অবক্ষয়: শিশুদের ভবিষ্যৎ কি কনটেন্ট ব্যবসার বলি হচ্ছে?

আপডেট সময় : ০২:১৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

 

 

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অনেক মানুষের জন্য বিনোদন, মানসিক প্রশান্তি এবং অবসর কাটানোর একটি মাধ্যম। কেউ পারিবারিক দুশ্চিন্তা, ব্যক্তিগত হতাশা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিস্থিতি থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসেন। এটি স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যখন ভিউ, লাইক, শেয়ার ও অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা জরুরি।

বিশেষ করে তথাকথিত কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমাজের সচেতন মহলে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, জনপ্রিয়তা ও ভিউ বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় কেউ কেউ এমন সব কনটেন্ট তৈরি করছেন, যা শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা, পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রতি আগ্রহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

সব কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীকে একইভাবে মূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। অনেকেই শিক্ষামূলক, সচেতনতামূলক ও মানবিক কনটেন্ট তৈরি করে সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। তবে একটি অংশের কনটেন্টে অশালীনতা, অপ্রয়োজনীয় অভিনয়, অর্থহীন প্রতিযোগিতা এবং সাময়িক জনপ্রিয়তাকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা প্রশ্নবিদ্ধ।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ছোট ছোট শিশুদেরও অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্ট তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও বাস্তব জীবনের দক্ষতা অর্জনের পরিবর্তে ক্যামেরার সামনে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

একটি প্রজন্মকে দক্ষ, শিক্ষিত, কর্মক্ষম ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে যদি ভিউ ও ভাইরাল হওয়ার সংস্কৃতি তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কি শুধু বিনোদন ও অর্থ উপার্জনের বাজার হয়ে থাকবে, নাকি এটি জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হবে?

কনটেন্ট তৈরি অপরাধ নয়, ভিউ অর্জনও অপরাধ নয়। কিন্তু জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রতিযোগিতায় শিশুদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং তরুণ প্রজন্মের কর্মমুখী মানসিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেই প্রবণতার সমালোচনা হওয়া প্রয়োজন।

ভিউ সাময়িক জনপ্রিয়তা এনে দিতে পারে, কিন্তু একটি শিশুর শিক্ষা, দক্ষতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎই পারে একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশকে এগিয়ে নিতে। তাই কনটেন্টের স্বাধীনতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করতে হবে