শেরপুরে ড্রামে মিলল নারীর লাশ, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করল পিবিআই, গ্রেপ্তার ৪ জন,
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরের শ্রীবরদীতে সেতুর নিচে প্লাস্টিকের ড্রামে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পিবিআইয়ের দাবি, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে ওই নারীকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর পরিচয় গোপন ও ঘটনা আড়াল করতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে শেরপুরের শ্রীবরদীতে লাশ ফেলে যায় আসামিরা।
রোববার (১ নভেম্বর) পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএমের প্রেস বিফ্রিং এ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত নারীর নাম ঝিনুক আক্তার (২৬)। তিনি গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় বসবাস করতেন এবং একটি পার্লারে কাজ করতেন।
পিবিআই জানায়, গত ২২ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীবরদী উপজেলার কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে একটি বড় নীল প্লাস্টিকের ড্রাম ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পরে ড্রাম খুলে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহে ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর পিবিআই শেরপুরের ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের ফুফু শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে ঝিনুকের স্বামী মো. সাইফুল ইসলাম মুন্নাসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে শ্রীবরদী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ২৩ অক্টোবর দায়ের করা হয়। পরে পিবিআই শেরপুর ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং মামলার তদন্তভার পুলিশ পরিদর্শক মাহবুবুর রহমানের ওপর ন্যস্ত করা হয়।
তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে প্রথমে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার দিঘলগ্রাম থেকে নুর ইসলাম ওরফে বাবু (৪৪) নামের একজনকে ২৯ অক্টোবর হেফাজতে নেওয়া হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকার উত্তরখান এলাকা থেকে সজল (৪৪) নামের আরেকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একই এলাকা থেকে নুর মোহাম্মদ ওরফে গোসা ওরফে বুশা (৪৪) এবং মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমাকে (৪৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর ঝিনুক আক্তার ঢাকার উত্তরখান এলাকায় কবিরশাহ মাজারের কাছে আসেন। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা তাঁকে দক্ষিণখান থানার মৌশাইর এলাকার একটি নির্মাণাধীন পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁকে দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝিনুক চলে যেতে চাইলে তাঁকে ১ হাজার ২০০ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি আরও টাকা দাবি করলে মাহবুবা আক্তার ওরফে ফাতেমার সঙ্গে তাঁর বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমা বটি দিয়ে ঝিনুককে এলোপাতাড়ি কোপান বলে পিবিআই জানায়। পরে অন্যরা তাঁর হাত-পা চেপে ধরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে অজ্ঞাত একটি গাড়িতে করে শেরপুরের শ্রীবরদীর কুড়িকাহনিয়া সেতুর নিচে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নুর ইসলাম ওরফে বাবু আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই শেরপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত, পিপিএম বলেন, এটি একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মামলা। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে পিবিআইয়ের সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করে অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন ও চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, অপরাধীরা অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করলেও অপরাধ কখনো চাপা থাকে না। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে










