সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শিলাছড়া ঝর্ণা: সৌন্দর্য আর দু্র্গমতার অপূর্ব সংমিশ্রণ

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫ ১৩৯ বার পড়া হয়েছে

খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত শিলাছড়া ঝর্ণা হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলোর একটি। সারা বছর টানা পানি পড়া এই ঝর্ণাটি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য, তেমনি সেখানে পৌঁছাতে হয় রীতিমতো রোমাঞ্চকর এক পাহাড়ি অভিযানে অংশ নিয়ে।

শিলাছড়া ঝর্ণায় পৌঁছাতে হলে খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে লংগদু-দীঘিনালা সড়ক ধরে যেতে হবে দীঘিনালার দাঙ্গাবাজার পর্যন্ত। এই পথে স্থানীয় পরিবহণ বা নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করা যায়। এরপর শুরু হয় প্রকৃত ট্রেকিংয়ের আসল অংশ—দাঙ্গাবাজার থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এক আঁকাবাঁকা পাহাড়ি ছড়ার পথ, যা পাড়ি দিতে সময় লাগে আনুমানিক দুই ঘণ্টা। পথিমধ্যে পড়বে শিলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারপরেই দেখা মিলবে প্রকৃতির দেওয়া অপার সৌন্দর্য—শিলাছড়া ঝর্ণার।

দুর্গম এই এলাকায় শেষাংশের যাত্রা পায়ে হেঁটে ছাড়া সম্ভব নয়। যানবাহনের কোনো উপযোগিতা না থাকায়, ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য ট্রেকিং-প্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য। পুরো যাওয়া-আসার পথে পাড়ি দিতে হয় মোট ১৬ কিলোমিটার দূরত্ব—যার পুরোটাই পাহাড়ি ছড়ার অনিন্দ্যসুন্দর ট্রেইলে মোড়ানো।

ঝর্ণার আশেপাশে বিদ্যুৎবিহীন কিছু আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি এবং দূর্গমতা মিলিয়ে এটি এখনো একেবারেই ‘আনটাচড’ বা প্রকৃতির নিজস্ব রূপে থাকা একটি গন্তব্য। এসব কারণেই সকালে রওনা দিয়ে দিনে ফিরে আসাই পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও নিরাপদ।

শিলাছড়া ঝর্ণা কেবল একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা—পাহাড়, ছড়া আর জলের মিতালীতে গড়া এক বিস্ময়কর গন্তব্য। যারা প্রকৃতি ও রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাদের জন্য শিলাছড়া ঝর্ণা হতে পারে স্মরণীয় এক অভিযান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পাহাড়ি পথ পেরিয়ে শিলাছড়া ঝর্ণা: সৌন্দর্য আর দু্র্গমতার অপূর্ব সংমিশ্রণ

আপডেট সময় : ০৭:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ জুন ২০২৫

খাগড়াছড়ির সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত শিলাছড়া ঝর্ণা হতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ঝর্ণাগুলোর একটি। সারা বছর টানা পানি পড়া এই ঝর্ণাটি যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য, তেমনি সেখানে পৌঁছাতে হয় রীতিমতো রোমাঞ্চকর এক পাহাড়ি অভিযানে অংশ নিয়ে।

শিলাছড়া ঝর্ণায় পৌঁছাতে হলে খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে লংগদু-দীঘিনালা সড়ক ধরে যেতে হবে দীঘিনালার দাঙ্গাবাজার পর্যন্ত। এই পথে স্থানীয় পরিবহণ বা নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করা যায়। এরপর শুরু হয় প্রকৃত ট্রেকিংয়ের আসল অংশ—দাঙ্গাবাজার থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এক আঁকাবাঁকা পাহাড়ি ছড়ার পথ, যা পাড়ি দিতে সময় লাগে আনুমানিক দুই ঘণ্টা। পথিমধ্যে পড়বে শিলাছড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, তারপরেই দেখা মিলবে প্রকৃতির দেওয়া অপার সৌন্দর্য—শিলাছড়া ঝর্ণার।

দুর্গম এই এলাকায় শেষাংশের যাত্রা পায়ে হেঁটে ছাড়া সম্ভব নয়। যানবাহনের কোনো উপযোগিতা না থাকায়, ঝর্ণায় পৌঁছানোর জন্য ট্রেকিং-প্রেমীদের জন্য এটি একটি আদর্শ গন্তব্য। পুরো যাওয়া-আসার পথে পাড়ি দিতে হয় মোট ১৬ কিলোমিটার দূরত্ব—যার পুরোটাই পাহাড়ি ছড়ার অনিন্দ্যসুন্দর ট্রেইলে মোড়ানো।

ঝর্ণার আশেপাশে বিদ্যুৎবিহীন কিছু আদিবাসী পরিবার বসবাস করে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অনুপস্থিতি এবং দূর্গমতা মিলিয়ে এটি এখনো একেবারেই ‘আনটাচড’ বা প্রকৃতির নিজস্ব রূপে থাকা একটি গন্তব্য। এসব কারণেই সকালে রওনা দিয়ে দিনে ফিরে আসাই পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত ও নিরাপদ।

শিলাছড়া ঝর্ণা কেবল একটি প্রাকৃতিক ঝর্ণা নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা—পাহাড়, ছড়া আর জলের মিতালীতে গড়া এক বিস্ময়কর গন্তব্য। যারা প্রকৃতি ও রোমাঞ্চ ভালোবাসেন, তাদের জন্য শিলাছড়া ঝর্ণা হতে পারে স্মরণীয় এক অভিযান।