সর্বশেষ
নোয়াখালী বেগমগঞ্জে মোহাম্মদ দীন ইসলামের ইন্তেকাল পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার-০২ ঘুমহীন চট্টগ্রাম: জ্বালানি সংকটে বন্ধ ১০ কেন্দ্র, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নগরজীবন ৪–৫ ঘণ্টার লোডশেডিং, পানি সংকটে নাকাল নগরবাসী সোনাইমুড়ীর মির্জানগর গ্রামে শোকের ছায়া—চৌধুরী সাহেবের ইন্তেকালে এলাকায় শোক নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে দুঃসাহসিক ডাকাতি চেষ্টা ভেস্তে দিল জনতা, হাতেনাতে আটক ২ সোনাইমুড়ীতে তৈয়্যব উল্যার ইন্তেকাল শোকের ছায়া গাজীপুরে মাওনা বাজার এলাকায় মাদ্রাসা ছাত্রী নিখোঁজ—২ দিনেও সন্ধান মেলেনি ভোলার চরফ্যাশনে বিএনপির দুঃসময়ের পরীক্ষিত সৈনিক মহিউদ্দিন বাচ্চুকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় ইসলামবাগ খরমটেক বাইতুল আমান জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী টিপু সুলতান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে গাইবান্ধায় শহিদুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন

 বিশেষ প্রতিবেদকঃ

ঘুমহীন চট্টগ্রাম: জ্বালানি সংকটে বন্ধ ১০ কেন্দ্র, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নগরজীবন ৪–৫ ঘণ্টার লোডশেডিং, পানি সংকটে নাকাল নগরবাসী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

 চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে। গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ১৮ এপ্রিল নগরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কার্যকর ঘাটতি কয়েকশ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে; অনেক এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ভ্যাপসা গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা, কাঁচাবাজার, ৩৭ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডসহ চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, শোলকবহর, বাকলিয়া, কাজির দেউড়ি, লাভলেইন, জুবিলী রোড, টেরিবাজার, হাজারী গলি, আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজার, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বহু স্থানে বিদ্যুৎ ফিরে পেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ওয়াসার পাম্পিং কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ কমে গিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্কাডা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১,২৯১.৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১,২০০.৭০ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতেই প্রায় ৯০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও এর একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সংকট অব্যাহত থাকে। ১৬ এপ্রিল গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে চলে যায়, যা উৎপাদন সক্ষমতায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ১৭ এপ্রিল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সচল কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারায় লোডশেডিংয়ের বিস্তার বাড়ে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বন্ধ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়ায় বলে স্কাডা সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রাউজান-১ ও ২, মাতারবাড়ি, জুলধা-২ ও ৩, কাপ্তাইয়ের একাধিক ইউনিট, এনলিমা, জুডিয়াক এবং কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট) এবং শিকলবাহা কেন্দ্রের (২১৮ মেগাওয়াট) ওপর, যা নগরীর মোট চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। চট্টগ্রাম পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে—যেখানে জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

 বিশেষ প্রতিবেদকঃ

ঘুমহীন চট্টগ্রাম: জ্বালানি সংকটে বন্ধ ১০ কেন্দ্র, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত নগরজীবন ৪–৫ ঘণ্টার লোডশেডিং, পানি সংকটে নাকাল নগরবাসী

আপডেট সময় : ১১:২৭:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

 চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে। গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা এবং একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় ১৮ এপ্রিল নগরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, কার্যকর ঘাটতি কয়েকশ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে; অনেক এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। ভ্যাপসা গরমে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ইপিজেড থানাধীন বন্দরটিলা, কাঁচাবাজার, ৩৭ থেকে ৪১ নম্বর ওয়ার্ডসহ চকবাজার, বহদ্দারহাট, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, শোলকবহর, বাকলিয়া, কাজির দেউড়ি, লাভলেইন, জুবিলী রোড, টেরিবাজার, হাজারী গলি, আন্দরকিল্লা, দেওয়ান বাজার, আগ্রাবাদ, দেওয়ানহাট, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, হালিশহর ও বন্দর এলাকায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বহু স্থানে বিদ্যুৎ ফিরে পেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ওয়াসার পাম্পিং কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে। ফলে বিভিন্ন এলাকায় পানি সরবরাহ কমে গিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। স্কাডা সূত্রে জানা গেছে, ১৫ এপ্রিল বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১,২৯১.৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ ছিল ১,২০০.৭০ মেগাওয়াট। দিনের শুরুতেই প্রায় ৯০ মেগাওয়াট ঘাটতি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও এর একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে সংকট অব্যাহত থাকে। ১৬ এপ্রিল গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে চলে যায়, যা উৎপাদন সক্ষমতায় তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে। ১৭ এপ্রিল পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। সচল কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে না পারায় লোডশেডিংয়ের বিস্তার বাড়ে এবং জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ায় বন্ধ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে ১০টিতে দাঁড়ায় বলে স্কাডা সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে রাউজান-১ ও ২, মাতারবাড়ি, জুলধা-২ ও ৩, কাপ্তাইয়ের একাধিক ইউনিট, এনলিমা, জুডিয়াক এবং কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করছে বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট (৬১২ মেগাওয়াট) এবং শিকলবাহা কেন্দ্রের (২১৮ মেগাওয়াট) ওপর, যা নগরীর মোট চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। চট্টগ্রাম পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পর্যাপ্ত উৎপাদন করতে পারছে না। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা আরও বাড়লে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে, যা বর্তমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সব মিলিয়ে, চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখন একটি বহুমাত্রিক সংকটে রূপ নিয়েছে—যেখানে জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন সক্ষমতা ও বিতরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা একসঙ্গে চাপ সৃষ্টি করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নগরবাসীর জীবনযাত্রা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।