নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪
- আপডেট সময় : ১২:০১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানাধীন এলাকায় শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক কবির হোসেন (৩৫)-কে পিটিয়ে ও নির্যাতন চালিয়ে হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) নোয়াখালী জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে কবির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার ৩ নম্বর নোয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর বাজারসংলগ্ন গাইন বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবা মৃত হানিফ এবং মায়ের নাম কমলা বেগম। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কবির শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং স্বাভাবিকভাবে কাজকর্ম করতে পারতেন না। ঘটনার দিন এজাহারনামীয় আসামিরা তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাঁর মা কমলা বেগমকেও মারধর করে আহত করা হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা নাইলনের রশি দিয়ে কবিরকে বেঁধে দফায় দফায় মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, নোয়াখালীতে পাঠায়। ময়নাতদন্তের সময় নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও মুখে রক্তের উপস্থিতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আলাউদ্দিন মুন্সী (২৮), মো. ফারুক উদ্দিন শুভ (২৪), মো. হোসেন (৩৪) ও মো. তারেক (২৩)। পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা কাঠের টুকরা, গাছের লাঠি ও নাইলনের রশি জব্দ করেছে। এ ঘটনায় নিহতের মা কমলা বেগম (৫২) বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বুধবার আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মামলার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।























