সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক |

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অবস্থিত খামেনির সরকারি প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার প্রথম দফাতেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রাসাদ চত্বর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
তবে হামলার পরপরই ইরান সরকার সারাদিন খামেনির মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে। সরকারি মুখপাত্ররা একে ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাইও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন-এ খামেনির ছবি প্রচার করা হয়, যার পটভূমিতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত চলছিল এবং পর্দার কোণায় কালো শোকবার্তা প্রদর্শিত হয়।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় বলা হয়, “আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” বিবৃতিতে তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক |

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অবস্থিত খামেনির সরকারি প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার প্রথম দফাতেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রাসাদ চত্বর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
তবে হামলার পরপরই ইরান সরকার সারাদিন খামেনির মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে। সরকারি মুখপাত্ররা একে ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাইও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন-এ খামেনির ছবি প্রচার করা হয়, যার পটভূমিতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত চলছিল এবং পর্দার কোণায় কালো শোকবার্তা প্রদর্শিত হয়।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় বলা হয়, “আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” বিবৃতিতে তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।