সর্বশেষ
ক্রয়কৃত জমিতে বাউন্ডারি দিয়ে দখলের অভিযোগ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নাম ঘিরে নতুন প্রশ্ন টঙ্গীতে হানি ট্র্যাপ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার। রংপুর বিভাগীয় কমিটি পুনর্গঠন ও সম্প্রসারণে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত। চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের প্রতিবাদ: সচেতন নাগরিকদের বক্তব্য নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান এবারের বিশ্বকাপে দর্শক উপস্থিতির নতুন রেকর্ড সৃষ্টি মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অপবাদ’ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন নিজ উদ্যোগে ১ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ সুমন মৃধা মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা কার্যক্রম জোরদারে ASKF-এর চট্টগ্রাম বিভাগ দক্ষিণ কমিটি ঘোষণা ফেক আইডির পোস্টে নরোত্তমপুরে তোলপাড়, মেম্বার পলাশকে ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

ক্রয়কৃত জমিতে বাউন্ডারি দিয়ে দখলের অভিযোগ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নাম ঘিরে নতুন প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী কলেজ রোডের মিদ্দা বাড়ি এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্রয়কৃত একটি জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত সাড়ে পাঁচ শতক জমি পাশের সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করে বাউন্ডারি নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী আজিম মিঞা চৌমুহনী প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছ থেকে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন। জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত মিউটেশন (নামজারি) সম্পন্ন হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি বিক্রয়ের সময় আশরাফ সিদ্দিক বাবু নিজেই মিউটেশন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মিউটেশন সম্পন্ন করার কথা বললেও বাস্তবে তা করা হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আজিম মিঞা পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করায় নিয়মিত সম্পত্তির খোঁজখবর নিতে পারেননি। সম্প্রতি স্থানীয় সূত্রে জমি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি জানতে পেরে বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ফরহাদের ১৮ শতক জমির পাশে থাকা আজিম মিঞার সাড়ে পাঁচ শতক জমিও একই বাউন্ডারির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে মোট সাড়ে ২৩ শতক জমির একক বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে পৃথক মালিকানাধীন জমির সীমানা বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের জমি দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরহাদ রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সম্পত্তিটির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তির সামনে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জমিটি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ বা বন্ধক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বৈধভাবে অন্যের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি কীভাবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হলো এবং এর আইনগত ভিত্তি কী—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
জমি ক্রয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত তানভীরুর রহিম সম্রাট ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পাওয়ার দাবি করেন। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের পর আশরাফ সিদ্দিক বাবু তাকে ভয়েস মেসেজে হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। সম্রাট জানান, সংশ্লিষ্ট ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে জমির বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়ে জানতে তানভীরুর রহিম সম্রাট অভিযুক্ত ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্রাট একাধিকবার ফোন করলেও ফরহাদ তার কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ফরহাদ সম্রাটকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছ থেকে কিছু না জেনে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার জন্য। তবে জমির বাউন্ডারি নির্মাণ, মালিকানা বা দখল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছে আজিম মিঞার জমি বাউন্ডারির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে জিএস রুবেল এবং মনজুরুল আজিম সুমন অবগত আছেন।” তবে পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে স্থাপিত সাইনবোর্ডের বৈধতা পরীক্ষা এবং দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ক্রয়কৃত জমিতে বাউন্ডারি দিয়ে দখলের অভিযোগ, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নাম ঘিরে নতুন প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০২:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী কলেজ রোডের মিদ্দা বাড়ি এলাকায় প্রায় পাঁচ বছর আগে ক্রয়কৃত একটি জমি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, তাদের বৈধভাবে ক্রয়কৃত সাড়ে পাঁচ শতক জমি পাশের সম্পত্তির সঙ্গে একীভূত করে বাউন্ডারি নির্মাণের মাধ্যমে দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী আজিম মিঞা চৌমুহনী প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছ থেকে উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করেন। জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও এখন পর্যন্ত মিউটেশন (নামজারি) সম্পন্ন হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জমি বিক্রয়ের সময় আশরাফ সিদ্দিক বাবু নিজেই মিউটেশন করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে মিউটেশন সম্পন্ন করার কথা বললেও বাস্তবে তা করা হয়নি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও নানা অজুহাতে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে আজিম মিঞা পরিবারসহ ঢাকায় বসবাস করায় নিয়মিত সম্পত্তির খোঁজখবর নিতে পারেননি। সম্প্রতি স্থানীয় সূত্রে জমি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি জানতে পেরে বিষয়টি সামনে আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ফরহাদের ১৮ শতক জমির পাশে থাকা আজিম মিঞার সাড়ে পাঁচ শতক জমিও একই বাউন্ডারির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে মোট সাড়ে ২৩ শতক জমির একক বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে পৃথক মালিকানাধীন জমির সীমানা বিলীন হয়ে গেছে এবং তাদের জমি দখলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফরহাদ রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সম্পত্তিটির ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তবে এ বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, সম্পত্তির সামনে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে জমিটি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ বা বন্ধক রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বৈধভাবে অন্যের নামে রেজিস্ট্রিকৃত জমি কীভাবে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হলো এবং এর আইনগত ভিত্তি কী—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
জমি ক্রয়ের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পরিচিত তানভীরুর রহিম সম্রাট ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়টি দেখতে পাওয়ার দাবি করেন। তার অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগের পর আশরাফ সিদ্দিক বাবু তাকে ভয়েস মেসেজে হুমকি ও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। সম্রাট জানান, সংশ্লিষ্ট ভয়েস রেকর্ড তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এদিকে জমির বাউন্ডারি নির্মাণের বিষয়ে জানতে তানভীরুর রহিম সম্রাট অভিযুক্ত ফরহাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্রাট একাধিকবার ফোন করলেও ফরহাদ তার কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপের ভয়েস মেসেজের মাধ্যমে ফরহাদ সম্রাটকে জানান, জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তার কাছ থেকে কিছু না জেনে আশরাফ সিদ্দিক বাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত তথ্য নেওয়ার জন্য। তবে জমির বাউন্ডারি নির্মাণ, মালিকানা বা দখল সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে ফরহাদ সরাসরি কোনো বক্তব্য দেননি বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা আশরাফ সিদ্দিক বাবুর কাছে আজিম মিঞার জমি বাউন্ডারির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই বিষয়ে জিএস রুবেল এবং মনজুরুল আজিম সুমন অবগত আছেন।” তবে পরবর্তীতে বিষয়টি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির প্রকৃত মালিকানা যাচাই, ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে স্থাপিত সাইনবোর্ডের বৈধতা পরীক্ষা এবং দখলচেষ্টার অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।