সর্বশেষ
মোবাইল_কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনকারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সালথায় পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক অবশেষে পুলিশের জালে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক |

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অবস্থিত খামেনির সরকারি প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার প্রথম দফাতেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রাসাদ চত্বর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
তবে হামলার পরপরই ইরান সরকার সারাদিন খামেনির মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে। সরকারি মুখপাত্ররা একে ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাইও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন-এ খামেনির ছবি প্রচার করা হয়, যার পটভূমিতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত চলছিল এবং পর্দার কোণায় কালো শোকবার্তা প্রদর্শিত হয়।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় বলা হয়, “আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” বিবৃতিতে তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক |

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬


ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। রোববার (১ মার্চ) ফারস নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানে অবস্থিত খামেনির সরকারি প্রাসাদ লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার প্রথম দফাতেই তিনি নিহত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে প্রাসাদ চত্বর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গভীর রাতে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানায়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে খামেনির মরদেহের ছবি দেখানো হয়েছে।
স্যাটেলাইটে প্রকাশিত একাধিক ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর খামেনির প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভবনটির বড় অংশ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
তবে হামলার পরপরই ইরান সরকার সারাদিন খামেনির মৃত্যুর খবর অস্বীকার করে। সরকারি মুখপাত্ররা একে ‘শত্রুর মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ’ বলে উল্লেখ করেন এবং জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। পরে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলায় খামেনির মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ ও জামাইও নিহত হয়েছেন।
খামেনির মৃত্যুর পর ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইএনএন-এ খামেনির ছবি প্রচার করা হয়, যার পটভূমিতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত চলছিল এবং পর্দার কোণায় কালো শোকবার্তা প্রদর্শিত হয়।
রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় বলা হয়, “আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” বিবৃতিতে তার মৃত্যুর জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করা হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।