বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ৭৪.২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিষণ্ণতার লক্ষণ
- আপডেট সময় : ০২:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের বড় অংশের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ রয়েছে বলে মানসিক স্বাস্থ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বন্ধু’ (BONDHU) এবং যুব উন্নয়ন ও নীতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক’ (BYTT) এর যৌথভাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত একটি প্রাথমিক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ৭৪ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে বিষণ্নতার বিভিন্ন মাত্রার লক্ষণ দেখা গেছে।
৪ নভেম্বর, বুধবার বিকেল ৩টায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে উক্ত অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ। প্রতিবেদন উপস্থাপন ও আলোচনা শেষে সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনটির সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের পরিচালক কাজী সাদ্দাম হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজাউল ইসলাম।
‘Socio-demographic Predictors of Depression Among University Students in Bangladesh: Evidence from Regression Modeling’ শীর্ষক গবেষণাটি দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-অধিভুক্ত কলেজের ১৮ থেকে ২৬ বছর বয়সী ৪২২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত হয়। বিষণ্নতার লক্ষণ পরিমাপে গবেষকেরা ডিএএসএস-২১ (DASS-21)-এর বাংলা বিষণ্নতা উপ-স্কেল ব্যবহার করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১২ দশমিক ৩ শতাংশের বিষণ্নতার লক্ষণ মৃদু, ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের মাঝারি, ১২ দশমিক ৩ শতাংশের তীব্র এবং ২০ দশমিক ৯ শতাংশের অত্যন্ত তীব্র পর্যায়ে ছিল।
গবেষণায় পারিবারিক সম্পর্কের অবনতি, আত্মহত্যার চিন্তা, অনিয়মিত ঘুম ও খাদ্যাভ্যাস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতাকে বিষণ্নতার ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ২৯ দশমিক ১ শতাংশ শিক্ষার্থী জানান, তাঁরা নিয়মিত পড়াশোনার জন্য দিনে এক ঘণ্টাও সময় দেন না। দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করেন ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী। আর ঘুম থেকে ওঠার আধা ঘণ্টার মধ্যে মুঠোফোন দেখেন ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। অন্যদিকে, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন বলে মনে করলেও তা নিতে পারছেন না।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত ও গোপনীয় মানসিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু, সহজে পাওয়া যায় এমন পেশাদার কাউন্সেলিং সেবা নিশ্চিত এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে গবেষণা দল। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন ও যাতায়াতব্যবস্থা উন্নত করা এবং দৈনন্দিন জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নীতির সঙ্গে জড়িত জাতীয় গুরুত্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের সুস্থ ও নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র, সমাজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


















