সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

বিয়ে ছিল ফাঁদ! ৮ স্বামীকে ফাঁসিয়ে কোটি টাকা হাতানো সামিরা নবম বিয়ের আগেই গ্রেপ্তার

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

পেশায় একসময় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা, কিন্তু সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে ‘বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারক’ হয়ে ওঠেন সামিরা ফাতিমা। প্রেম, বিশ্বাস আর বিয়ের আবরণে প্রতারণা চালিয়ে কমপক্ষে ৮ জন পুরুষের জীবন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নবম বিয়ের পরিকল্পনা চলছিল পুরোদমে—ঠিক তখনই হাতেনাতে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

গত ২৯ জুলাই ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে সামিরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৫ বছর ধরে চলা প্রতারণার জাল

নাগপুর পুলিশ জানায়, গত দেড় দশক ধরে সামিরা ফাতিমা প্রেমের অভিনয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক সম্মানকে ঢাল করে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। এ পর্যন্ত তার ৮টি বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রতিটি বিয়েই ছিল তার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।

টার্গেট করতেন ধনী মুসলিম পুরুষ

সামিরা মূলত আর্থিকভাবে সচ্ছল, প্রবাসী বা ব্যবসায়ী মুসলিম পুরুষদের টার্গেট করতেন। ঘটকালির ওয়েবসাইট, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজেকে ডিভোর্সি ও সন্তানের মা বলে পরিচয় দিতেন। আবেগঘন গল্পে মন গলিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সামিরার নিজস্ব একটি সহযোগী চক্র ছিল, যারা পাত্র বাছাই থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রাথমিক সম্পর্ক গড়া, এমনকি বিয়ের আয়োজনেও সহায়তা করত। বিয়ের পর শুরু হতো মূল কৌশল—আইনগত পদক্ষেপ, সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে ফাঁস প্রতারণা

সাম্প্রতিক সময়ে দুইজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর সামিরা তাকে ছেড়ে চলে যান এবং পরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেন।

অন্য একজন জানান, সামিরা তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাগপুর পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সামিরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্যের আশঙ্কা

নাগপুর পুলিশ জানায়, সামিরার সঙ্গে প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, কতজনকে এভাবে শিকার করা হয়েছে—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সংক্ষিপ্তভাবে শিরোনামের বিকল্প:

‘বিয়ে’ ছিল ব্যবসা! নবমবারের আগেই ধরা সামিরা

৮ স্বামী, কোটি টাকার প্রতারণা: গ্রেপ্তার সামিরা

ঘটকালি ওয়েবসাইটে শিকার খুঁজতেন সামিরা, ফাঁদে ৮ পুরুষ

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিয়ে ছিল ফাঁদ! ৮ স্বামীকে ফাঁসিয়ে কোটি টাকা হাতানো সামিরা নবম বিয়ের আগেই গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৩:৩৪:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

পেশায় একসময় ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা, কিন্তু সেই পরিচয়কে ব্যবহার করে ‘বিয়ের ফাঁদে ফেলে কোটি টাকার প্রতারক’ হয়ে ওঠেন সামিরা ফাতিমা। প্রেম, বিশ্বাস আর বিয়ের আবরণে প্রতারণা চালিয়ে কমপক্ষে ৮ জন পুরুষের জীবন থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নবম বিয়ের পরিকল্পনা চলছিল পুরোদমে—ঠিক তখনই হাতেনাতে ধরা পড়লেন পুলিশের জালে।

গত ২৯ জুলাই ভারতের মহারাষ্ট্রের নাগপুর থেকে সামিরাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৫ বছর ধরে চলা প্রতারণার জাল

নাগপুর পুলিশ জানায়, গত দেড় দশক ধরে সামিরা ফাতিমা প্রেমের অভিনয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও সামাজিক সম্মানকে ঢাল করে একাধিক পুরুষকে বিয়ে করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেছেন। এ পর্যন্ত তার ৮টি বিয়ের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ। প্রতিটি বিয়েই ছিল তার সুপরিকল্পিত প্রতারণার অংশ।

টার্গেট করতেন ধনী মুসলিম পুরুষ

সামিরা মূলত আর্থিকভাবে সচ্ছল, প্রবাসী বা ব্যবসায়ী মুসলিম পুরুষদের টার্গেট করতেন। ঘটকালির ওয়েবসাইট, ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজেকে ডিভোর্সি ও সন্তানের মা বলে পরিচয় দিতেন। আবেগঘন গল্পে মন গলিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পর্ক গড়ে তুলতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, সামিরার নিজস্ব একটি সহযোগী চক্র ছিল, যারা পাত্র বাছাই থেকে শুরু করে যোগাযোগ, প্রাথমিক সম্পর্ক গড়া, এমনকি বিয়ের আয়োজনেও সহায়তা করত। বিয়ের পর শুরু হতো মূল কৌশল—আইনগত পদক্ষেপ, সামাজিক সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায়।

ভুক্তভোগীর জবানবন্দিতে ফাঁস প্রতারণা

সাম্প্রতিক সময়ে দুইজন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন।

এক ভুক্তভোগী জানান, বিয়ের পর সামিরা তাকে ছেড়ে চলে যান এবং পরে তাকে বিভিন্নভাবে ব্ল্যাকমেইল করে ৫০ লাখ টাকা আদায় করেন।

অন্য একজন জানান, সামিরা তার কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই নাগপুর পুলিশ গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত সামিরাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

তদন্তে আরও চমকপ্রদ তথ্যের আশঙ্কা

নাগপুর পুলিশ জানায়, সামিরার সঙ্গে প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, কতজনকে এভাবে শিকার করা হয়েছে—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


সংক্ষিপ্তভাবে শিরোনামের বিকল্প:

‘বিয়ে’ ছিল ব্যবসা! নবমবারের আগেই ধরা সামিরা

৮ স্বামী, কোটি টাকার প্রতারণা: গ্রেপ্তার সামিরা

ঘটকালি ওয়েবসাইটে শিকার খুঁজতেন সামিরা, ফাঁদে ৮ পুরুষ