সর্বশেষ
কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের খানসামায় কৃষকদের মাঝে চারা, গোবর সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত নোয়াখালী ডিবির অভিযানে ২৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ২৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার কাউখালীতে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার পরিবারের মাঝে জিআর চাল বিতরণ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা: সায়েন্স ল্যাবে বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে উত্তপ্ত ঢাবি মুন্সীগঞ্জে সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে গ্রেফতার ময়মনসিংহে সামাজিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত মৌলভীবাজারে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে:

কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের

 তৈয়্যবুর রহমান তুহিন
  • আপডেট সময় : ০২:১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

 বরিশাল থেকে ফিরে। বরিশাল মহানগরীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে পর্যটকবাহী নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ এ নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একজন উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাদী করে অবিলম্বে নিয়মিত মামলা (এফআইআর) রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় বিচারক ব্যক্তিগতভাবে ত্রিশ গোডাউন এলাকায় অবস্থানকালে পর্যটকবাহী নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেটির ভিত্তিতেই স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঘটনাস্থলে মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজন প্রতিদিন প্রতিটি নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। মাঝিদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নদীতে নৌকা নামাতে বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক সময় মারধরেরও শিকার হতে হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ত্রিশ গোডাউন বরিশালের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। মাঝিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের কারণে তারা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে পর্যটকদেরও। বিষয়টি জনস্বার্থ, পর্যটন ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারাসহ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের সহযোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এ উদ্যোগকে স্থানীয় মাঝি, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা চাঁদাবাজি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের

আপডেট সময় : ০২:১১:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

 বরিশাল থেকে ফিরে। বরিশাল মহানগরীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন এলাকায় কীর্তনখোলা নদীর তীরে পর্যটকবাহী নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বরিশালের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও জাস্টিস অব দ্য পিস এস. এম. শরিয়ত উল্লাহ এ নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একজন উপযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে বাদী করে অবিলম্বে নিয়মিত মামলা (এফআইআর) রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ জুলাই সন্ধ্যায় বিচারক ব্যক্তিগতভাবে ত্রিশ গোডাউন এলাকায় অবস্থানকালে পর্যটকবাহী নৌকা ও ট্রলারের মাঝিদের কাছ থেকে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায়ের ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন। তিনি ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন এবং পরে সেটির ভিত্তিতেই স্বপ্রণোদিত হয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। ঘটনাস্থলে মাঝিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক প্রভাবশালী ব্যক্তির লোকজন প্রতিদিন প্রতিটি নৌকা ও ট্রলার থেকে ৫০ টাকা করে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে। মাঝিদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নদীতে নৌকা নামাতে বাধা দেওয়া হয় এবং অনেক সময় মারধরেরও শিকার হতে হয়। আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, ত্রিশ গোডাউন বরিশালের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। মাঝিদের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের কারণে তারা যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে পর্যটকদেরও। বিষয়টি জনস্বার্থ, পর্যটন ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৩৮৫ ধারাসহ আইন-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নেপথ্যের সহযোগীদের শনাক্ত করে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের এ উদ্যোগকে স্থানীয় মাঝি, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা চাঁদাবাজি দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন।