সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

প্রেমের ফাঁদে চা, তারপর অজ্ঞান! পাত্রী গ্রেপ্তার, জব্দ হওয়া মোবাইল গেল বাংলাদেশে

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫ ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখার জন্য হোটেলে দেখা করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন বরপক্ষের সুদীপ বসু। পাত্রীর দেওয়া চা পান করার পর সংজ্ঞা হারান তিনি। জ্ঞান ফিরতেই বুঝতে পারেন—চুরি হয়ে গেছে তার মোবাইল ও মানিব্যাগ। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনা মোড় নেয় নাটকীয় দিকে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। ভুক্তভোগী সুদীপ বসু লেনিনগড় এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, বিয়ের জন্য একটি ঘটকালি ওয়েবসাইটে তার সঙ্গে পরিচয় হয় জিয়া সিংহ নামের এক তরুণীর। গত ১ জুলাই তাদের প্রথম দেখা হয় একটি হোটেলে। সেখানেই চা পান করান জিয়া।

কিন্তু চা খাওয়ার পরপরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন সুদীপ। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরি হয়েছে। পাত্রী জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

পরবর্তীতে সুদীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানা বিষয়টি তদন্তে নামে এবং জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে বাংলাদেশের এক যুবককে।

গ্রেপ্তার জিয়ার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ দমদম এলাকা থেকে রাজশাহীর বাসিন্দা মহাম্মদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই চুরি হওয়া মোবাইল পাচারের সঙ্গে যুক্ত।

হাসান স্বীকার করেছেন, জিয়ার কাছ থেকে তিনি অন্তত ১০টি মোবাইল ফোন কিনেছেন এবং সেগুলো বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন এবং তার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কিনা, কিংবা তার সঙ্গে এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ওই নাগরিককে ৬ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জিয়াকেও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় চক্রটির আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রেমের ফাঁদে চা, তারপর অজ্ঞান! পাত্রী গ্রেপ্তার, জব্দ হওয়া মোবাইল গেল বাংলাদেশে

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অগাস্ট ২০২৫

বিয়ের আগে পাত্রীকে দেখার জন্য হোটেলে দেখা করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন বরপক্ষের সুদীপ বসু। পাত্রীর দেওয়া চা পান করার পর সংজ্ঞা হারান তিনি। জ্ঞান ফিরতেই বুঝতে পারেন—চুরি হয়ে গেছে তার মোবাইল ও মানিব্যাগ। এরপর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে ঘটনা মোড় নেয় নাটকীয় দিকে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নিউ ব্যারাকপুরে। ভুক্তভোগী সুদীপ বসু লেনিনগড় এলাকার বাসিন্দা। তার অভিযোগ, বিয়ের জন্য একটি ঘটকালি ওয়েবসাইটে তার সঙ্গে পরিচয় হয় জিয়া সিংহ নামের এক তরুণীর। গত ১ জুলাই তাদের প্রথম দেখা হয় একটি হোটেলে। সেখানেই চা পান করান জিয়া।

কিন্তু চা খাওয়ার পরপরই অজ্ঞান হয়ে পড়েন সুদীপ। জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান তার মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ চুরি হয়েছে। পাত্রী জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

পরবর্তীতে সুদীপ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে এয়ারপোর্ট থানা বিষয়টি তদন্তে নামে এবং জিয়াকে গ্রেপ্তার করে। তদন্তে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য—চুরি হওয়া মোবাইল ফোনটি বিক্রি করা হয়েছে বাংলাদেশের এক যুবককে।

গ্রেপ্তার জিয়ার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ দমদম এলাকা থেকে রাজশাহীর বাসিন্দা মহাম্মদ হাসানকে গ্রেপ্তার করে। জানা যায়, ৪০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই চুরি হওয়া মোবাইল পাচারের সঙ্গে যুক্ত।

হাসান স্বীকার করেছেন, জিয়ার কাছ থেকে তিনি অন্তত ১০টি মোবাইল ফোন কিনেছেন এবং সেগুলো বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি করেছেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করতেন এবং তার কাছে বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কিনা, কিংবা তার সঙ্গে এই চক্রে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশের ওই নাগরিককে ৬ দিনের পুলিশি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জিয়াকেও রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় চক্রটির আন্তর্জাতিক সংযোগ নিয়ে পুলিশের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।