সর্বশেষ
সোনাইমুড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এমপির আকস্মিক পরিদর্শন উপস্থিতি সংকটে তীব্র অসন্তোষ নোয়াখালীর স্বাস্থ্যখাতে নতুন গতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্য সচিব নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় বিএনপি নেতা আবু সুফিয়ান বাবু আহত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে স্কেভেটর ও ট্রাক জব্দ গোল্ড স্যান্ড কোম্পানির কর্মচারীকে ঘিরে অপপ্রচার ও গুজবের অভিযোগ চৌমুহনী মোরশেদ আলম কমপ্লেক্সে ভয়াবহ আগুন ঢাকা চকবাজারে জুমার দিনে জাঁকজমকপূর্ণ ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত। চৌমুহনীতে ৫০ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক প্রতিবন্ধীদের নামে ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা নাটোরে কৃষকের কান্না: তেলের অভাবে পাম্পে দাঁড়িয়ে হতাশ বুদু মিয়া, ফসল হারানোর শঙ্কা

গোল্ড স্যান্ড কোম্পানির কর্মচারীকে ঘিরে অপপ্রচার ও গুজবের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: রাজধানীতে অবস্থিত আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ড স্যান্ড’ (পূর্বনাম: গ্রীন ডেল্টা)-এর এক কর্মচারীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ভুয়া আইডি ব্যবহার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুরুল আমিন বাকেরের এই কোম্পানিতে কর্মরত জয়নাল ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’, যিনি পিয়ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন—তাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এ বিতর্কের সূত্রপাত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার ও জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-কেও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় পত্রিকার সরেজমিন বার্তার সিনিয়র রিপোর্টার ও ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজিম মিঞার মোবাইল নম্বর হ্যাক করা হয়। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চকবাজার থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। ভুক্তভোগী আজিম মিঞা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আইডির মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়নাল, আজিম মিঞা ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন ভাষায় মন্তব্য এবং হুমকি প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, জয়নাল হোয়াটসঅ্যাপে দাবি করেন—“গোল্ড স্যান্ডে তিনি যা বলেন তাই কার্যকর হয়” এবং প্রয়োজনে শতাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন করিয়ে মিথ্যা তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সক্ষমতা তার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে আজিম মিঞা এ বিষয়ে জয়নালকে প্রশ্ন করলে, কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে—এর জবাবে জয়নাল ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ ও আজিম মিঞাকে যেকোনো উপায়ে হেনস্তা করার ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর জয়নাল ক্ষুব্ধ হয়ে আজিম মিঞা ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের অনৈতিক ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

গোল্ড স্যান্ড কোম্পানির কর্মচারীকে ঘিরে অপপ্রচার ও গুজবের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১১:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: রাজধানীতে অবস্থিত আবাসন প্রতিষ্ঠান ‘গোল্ড স্যান্ড’ (পূর্বনাম: গ্রীন ডেল্টা)-এর এক কর্মচারীকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, ভুয়া আইডি ব্যবহার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক নুরুল আমিন বাকেরের এই কোম্পানিতে কর্মরত জয়নাল ওরফে ‘মৃগী জয়নাল’, যিনি পিয়ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন—তাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এ বিতর্কের সূত্রপাত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, জয়নাল নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার হোসেন পলাশ মেম্বার ও জামাল উদ্দিন ওরফে ‘সুদি খোকন’-এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-কেও ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাতীয় পত্রিকার সরেজমিন বার্তার সিনিয়র রিপোর্টার ও ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজিম মিঞার মোবাইল নম্বর হ্যাক করা হয়। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক ছবি ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চকবাজার থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানা যায়নি। ভুক্তভোগী আজিম মিঞা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া আইডির মাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের নজরে আনার পর একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়নাল, আজিম মিঞা ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন ভাষায় মন্তব্য এবং হুমকি প্রদান করেন। এ সংক্রান্ত কিছু তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
আরও জানা যায়, জয়নাল হোয়াটসঅ্যাপে দাবি করেন—“গোল্ড স্যান্ডে তিনি যা বলেন তাই কার্যকর হয়” এবং প্রয়োজনে শতাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে ফোন করিয়ে মিথ্যা তথ্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সক্ষমতা তার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
পরবর্তীতে আজিম মিঞা এ বিষয়ে জয়নালকে প্রশ্ন করলে, কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে—এর জবাবে জয়নাল ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’ ও আজিম মিঞাকে যেকোনো উপায়ে হেনস্তা করার ইঙ্গিত দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর জয়নাল ক্ষুব্ধ হয়ে আজিম মিঞা ও তার পরিবারকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য ও গালিগালাজ করেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এসব ঘটনার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের অনৈতিক ও দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ড ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই বিষয়টি যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।