সর্বশেষ
চারঘাটে ৬০ গ্রাম হেরোইনসহ ২ জন গ্রেফতার গফরগাঁওয়ে বাংলাদেশ ছাত্র শিবির কর্তৃক কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শার্শায় প্রস্তুতিমূলক সভা, ৫ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা ঢাকা চকবাজারের বিশিষ্ট খেলনা ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদের পিত্তস্থলীতে পাথর অপারেশন আজ, সবার কাছে দোয়া কামনা কাচপুরের হাজী গরিবুল্লাহ রেস্তোরাঁয় খাবারের মান নিয়ে সাংবাদিকদের অসন্তোষ জমি নিয়ে বিরোধ: এক পক্ষকে কোপানোর পর অন্য পক্ষের বাড়িঘরে লুট নালিতাবাড়ীতে যুবককে অটোতে তুলে নিয়ে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ‘রিপোর্টার্স প্রেসক্লাব গাইবান্ধা’র আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত জাতীয় সাংবাদিক অধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দ কাজিপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিপদসংকুল আচরণের অভিযোগ

বাঁশখালীতে মাকে হত্যা: র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানে ছেলে ও পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

মোঃ শহীদুল ইসলাম বিশেষ প্রতিবেদকঃ
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬ ৭৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বহুল আলোচিত মাকে গলা কেটে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ আক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র‍্যাব-১৫, কক্সবাজারের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।

র‍্যাব সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাটির এজাহারনামীয় এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রেহেনা বেগম (৬২) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বড় ছেলে প্রবাসে অবস্থান করে নিয়মিত মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য অর্থ পাঠাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ছেলে কাশেম সেই অর্থ আত্মসাৎ করতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল, যা ক্রমেই তীব্র রূপ নেয়।

এই বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৫ জুন রাত থেকে ৬ জুন ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে কাশেম ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ আক্তার পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেহেনা বেগমকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে রক্তাক্ত কাপড় ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন সকালে স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড দ্রুতই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মুক্তার আহমদ বাদী হয়ে ৮ জুন বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাঁশখালীতে মাকে হত্যা: র‍্যাব-৭ ও র‍্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানে ছেলে ও পুত্রবধূ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০১:২৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বহুল আলোচিত মাকে গলা কেটে হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ আক্তারকে (২৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর র‍্যাব-৭, চট্টগ্রাম ও র‍্যাব-১৫, কক্সবাজারের যৌথ অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।

র‍্যাব সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেলে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাটির এজাহারনামীয় এই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রেহেনা বেগম (৬২) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বড় ছেলে প্রবাসে অবস্থান করে নিয়মিত মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য অর্থ পাঠাতেন। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ছেলে কাশেম সেই অর্থ আত্মসাৎ করতেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিবারে বিরোধ চলছিল, যা ক্রমেই তীব্র রূপ নেয়।

এই বিরোধের জের ধরে গত বছরের ৫ জুন রাত থেকে ৬ জুন ভোরের মধ্যে কোনো এক সময়ে কাশেম ও তাঁর স্ত্রী নারগিছ আক্তার পরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেহেনা বেগমকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হত্যার পর ঘটনাটি আড়াল করতে রক্তাক্ত কাপড় ঘরের এক কোণে লুকিয়ে রাখা হয়।

পরদিন সকালে স্বজনরা গুরুতর অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নৃশংস এ হত্যাকাণ্ড দ্রুতই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং জাতীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. মুক্তার আহমদ বাদী হয়ে ৮ জুন বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০)। মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা গ্রেপ্তার এড়াতে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত করা হয় এবং পরিকল্পিত যৌথ অভিযানের মাধ্যমে অবশেষে তাঁদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।