ডিএনসির ১০ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১১:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে সরকারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন রাজধানীর এক ব্যবসায়ী। অভিযোগে ডিএনসির ১০ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী ফরহাদ বিল্লা রুবেল, যিনি রাজধানীর নিকুঞ্জ এলাকার বাসিন্দা এবং লা পেসেতা ফ্যাশন অ্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে ফরহাদ বিল্লা রুবেল উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে তৈরি পোশাক, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যবসার প্রয়োজনে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও বিদেশি অতিথিরা তাঁর অফিস ও বাসায় যাতায়াত করেন। তাঁদের কেউ কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিদেশি পানীয় কিংবা হুকা-সংশ্লিষ্ট সামগ্রী নিয়ে আসতেন, যার কিছু খালি বোতল ও ব্যবহৃত সামগ্রী পরবর্তীতে বাসায় থেকে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তয়ের পরিচয়ে ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁর অফিসে প্রবেশ করেন। অভিযোগে পরিদর্শক মাহবুব রহমান, সহকারী পরিচালক মোস্তাক আহমেদ, উপপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল মামুন, সহকারী উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আলী, তৃষ্ণা রাণী বিশ্বাস, রুবেল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান ও লুৎফর রহমানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, কর্মকর্তারা অফিসে প্রবেশ করে বিভিন্ন নথিপত্র তল্লাশির নামে এলোমেলো করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে সেখানে উপস্থিত হলে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করা হয় এবং মাদক মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একপর্যায়ে মামলা থেকে রেহাই দেওয়ার শর্তে তাঁর কাছে এক কোটি টাকা দাবি করা হয়। পরে ওই অর্থের পরিমাণ কমিয়ে ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত অর্ধেক অর্থ পরিশোধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় আটকে রেখে অর্থ আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রাত ১১টা ১০ মিনিটের দিকে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এসে তাঁর ব্যাগে থাকা ২০ লাখ টাকা নিয়ে যান। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরে তাঁকে বনানী, গুলশান ও হাতিরঝিল এলাকার বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর পর গেন্ডারিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। অভিযোগকারী জানান, পরদিন তাঁর বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার সারণির ২৪(খ) ও ২৯(খ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। তবে মামলার এজাহারে তাঁকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও তিনি এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জব্দ তালিকায় প্রদর্শিত স্বাক্ষর তাঁর নয়। অভিযানের সময় তাঁর বাসা থেকে বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ফরহাদ বিল্লা রুবেলের ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযানের সময়সূচি এবং ঘটনাপ্রবাহ তাঁর বাসার সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাঁর দাবি, কর্মকর্তারা এজাহারে বর্ণিত সময়ের অনেক আগে বাসায় প্রবেশ করেন এবং উল্লেখিত সময়ের অনেক পরে সেখান থেকে বের হন। এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন) মো. বশির আহমেদ বলেন, অভিযোগপত্রটি প্রধান কার্যালয়ে জমা হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়গুলো বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারিত হবে

























