সর্বশেষ
নালিতাবাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধরা,পলাতক মুদি দোকানদার আজিম মিঞার প্রতিবাদমূলক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য, আলোচনায় পারি ফাউন্ডেশনের ফিরোজ আহমেদ পলাশ জামায়েতে ইসলামি যুব বিভাগ নালিতাবাড়ী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত ব্রাক্ষ্মণ পাড়া থানার ভয়ঙ্কর মাদক স্পটের নেতৃত্বে চৌকিদার শাহীন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা ১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে গাছের চারা বিতরণ সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

স্ত্রী ও ছেলের হাতে খুন হন আলমগীর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

 বাংলাদেশ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘরের বাইরে ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলা’র সাজানো গল্প ছাপিয়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চিত্র। মূলত পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন আলমগীর। গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। এতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ‘ধামা দা’ উদ্ধার করা হয়। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ভিকটিম আলমগীরের সাথে তার প্রথম স্ত্রী রহিমার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের জেরে ২০০৭ সাল থেকে তাদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ৮–৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে পুনরায় তাদের বাড়িতে নিয়ে এলেও ঝগড়া থামেনি। ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে মা ও ছেলে মিলে পাল্টা আক্রমণ করে। তারা ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার পর অপরাধ আড়াল করতে আসামিরা এলাকায় প্রচার করেন যে, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। ওসি বলেন, শুরু থেকেই আসামিদের কথায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ শুরু করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

স্ত্রী ও ছেলের হাতে খুন হন আলমগীর

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

 বাংলাদেশ দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় প্রবাসী আলমগীর হোসেন (৪০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ঘরের বাইরে ‘অজ্ঞাত দুর্বৃত্তদের হামলা’র সাজানো গল্প ছাপিয়ে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চিত্র। মূলত পারিবারিক কলহের জেরে নিজ ঘরেই স্ত্রী ও সন্তানের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন আলমগীর। গত শুক্রবার বিকেলে পুলিশের দেয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। এতে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে নিহতের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) ও ছেলে রবিউল হাসান রাকিবকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে উত্তর পদুয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ‘ধামা দা’ উদ্ধার করা হয়। তাদের আদালতে প্রেরণ করা হলে নিজেদের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশ। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ জানান, ভিকটিম আলমগীরের সাথে তার প্রথম স্ত্রী রহিমার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। দ্বিতীয় বিয়ের জেরে ২০০৭ সাল থেকে তাদের দূরত্ব তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে রহিমা সন্তানদের নিয়ে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ৮–৯ মাস আগে আলমগীর দেশে ফিরে পুনরায় তাদের বাড়িতে নিয়ে এলেও ঝগড়া থামেনি। ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দীন আহমেদ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আরও বলেন, গত ২৮ এপ্রিল রাতে ঝগড়ার একপর্যায়ে আলমগীর উত্তেজিত হয়ে স্ত্রীর মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলেন এবং দা দিয়ে ভয় দেখান। এতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে মা ও ছেলে মিলে পাল্টা আক্রমণ করে। তারা ঘরে থাকা গাছ কাটার ধামা দা দিয়ে আলমগীরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। ঘটনার পর অপরাধ আড়াল করতে আসামিরা এলাকায় প্রচার করেন যে, রাতে আলমগীর ঘর থেকে বের হলে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে পালিয়ে গেছে। ওসি বলেন, শুরু থেকেই আসামিদের কথায় অসংলগ্নতা পাওয়ায় আমরা পারিপার্শ্বিক তথ্য ও ফরেনসিক আলামত বিশ্লেষণ শুরু করি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মা ও ছেলে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।