সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ সফল অস্ত্রোপচারের পর আশার আলো: সুস্থতার পথে ছোট্ট সাইফা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শহিদুল্লাহর পিতা আবুল কাশেম মিয়া ইন্তেকাল। আতাউর রহমান হুমায়ুন কবিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কাজিপুরের গান্ধাইলবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ড. আব্দুস সাত্তার পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব : “প্রতিবাদী কণ্ঠ” লেখা জার্সি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রক্তসৈনিক ও সমাজসেবক সুমন রাফি

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে একই বিয়ের বিপরীতে ভিন্ন দুটি কাবিননামা তৈরি করে জালিয়াতির অভিযোগে এক নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদ সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের মেরি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিচার প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা জমা দিলে দেখা যায়, একই বিয়ের জন্য দুটি আলাদা কাবিননামা দাখিল করা হয়েছে—যা আদালতে সন্দেহের জন্ম দেয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে কাজী আব্দুল মজিদের প্রস্তুতকৃত কাবিননামায় অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কাজীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে একই বিয়ের বিপরীতে ভিন্ন দুটি কাবিননামা তৈরি করে জালিয়াতির অভিযোগে এক নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদ সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের মেরি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিচার প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা জমা দিলে দেখা যায়, একই বিয়ের জন্য দুটি আলাদা কাবিননামা দাখিল করা হয়েছে—যা আদালতে সন্দেহের জন্ম দেয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে কাজী আব্দুল মজিদের প্রস্তুতকৃত কাবিননামায় অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কাজীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।