সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি শার্শা ও বেনাপোলে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় : পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতিসহ যৌথ ব্রিফিং সভা অনুষ্ঠিত জমির বাউন্ডারি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি? সৌদি প্রবাসী আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ নালিতাবাড়ীতে একুশে পাঠচক্রের আসরে স্মরণ করা হলো ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ সেকান্দার আলী তালুকদারকে ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ।

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী:
  • আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীতে একই বিয়ের বিপরীতে ভিন্ন দুটি কাবিননামা তৈরি করে জালিয়াতির অভিযোগে এক নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদ সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের মেরি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিচার প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা জমা দিলে দেখা যায়, একই বিয়ের জন্য দুটি আলাদা কাবিননামা দাখিল করা হয়েছে—যা আদালতে সন্দেহের জন্ম দেয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে কাজী আব্দুল মজিদের প্রস্তুতকৃত কাবিননামায় অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কাজীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

এক বিয়েতে দুই কাবিননামা! নীলফামারীতে কাজীর কারসাজি ফাঁস, জেলহাজতে প্রেরণ

আপডেট সময় : ১০:৫৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে একই বিয়ের বিপরীতে ভিন্ন দুটি কাবিননামা তৈরি করে জালিয়াতির অভিযোগে এক নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী)কে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্ত আব্দুল মজিদ ওরফে এম এ মজিদ সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) কিশোরগঞ্জ আমলী আদালতের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলাম চৌধুরী শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১৫ এপ্রিল নীলফামারী সদরের হাড়োয়া ধনীপাড়া এলাকার রমজান আলীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর কালিকাপুর খামাতপাড়া গ্রামের মেরি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মুসলিম শরিয়াহ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত ওই বিয়েতে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করা হয় এবং দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই রমজান আলী স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় মেরি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
বিচার প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষ আদালতে কাবিননামা জমা দিলে দেখা যায়, একই বিয়ের জন্য দুটি আলাদা কাবিননামা দাখিল করা হয়েছে—যা আদালতে সন্দেহের জন্ম দেয়। পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ে কাজী আব্দুল মজিদের প্রস্তুতকৃত কাবিননামায় অসঙ্গতি ও জালিয়াতির প্রমাণ মেলে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান শাসন জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল। আদালতে জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে কাজীদের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।