এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) কার্যক্রম চালুর প্রতিবাদে রাজধানীতে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের আন্দোলন রোববার (৪ জানুয়ারি) দফায় দফায় সংঘর্ষে রূপ নেয়। দিনভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেলের ঘটনায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় কারওয়ান বাজার এলাকা। সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ব্যবসায়ী নেতারা।
রোববার বিকেলে রাজধানীর মোতালেব প্লাজায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী যেন ফায়দা নিতে না পারে—সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
‘২৫ লাখ ব্যবসায়ী বেকার হবে’—ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি
বৈঠকে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিরা এনইআইআর সিস্টেম পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানান। তারা বলেন, বর্তমান কাঠামোয় এনইআইআর কার্যকর হলে দেশের প্রায় ২৫ লাখ মোবাইল ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারী বেকার হয়ে পড়বে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, এনইআইআর ইস্যুতে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এ সময় তারা স্পষ্ট করে বলেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর ও বেগবান হবে।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন বলেন, “আজ যাদের আটক করা হয়েছে সেই ১১ জন ব্যবসায়ীকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এর আগে আটক হওয়া ৪৬ জনকেও ছাড়তে হবে।”
এ বিষয়ে ডিসি মাসুদ আলম জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আটকদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সকাল থেকেই আন্দোলন, কারওয়ান বাজারে সংঘর্ষ
এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসিতে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ও আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তিসহ কয়েকটি দাবিতে সকাল থেকেই আন্দোলনে নামেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়েও কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যবসায়ীরা কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বাধা দিলে একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করা হয়।
এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত পুলিশ-সাংবাদিক
পরে আন্দোলনকারীরা কারওয়ান বাজারের বিভিন্ন সড়কে বারবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় আন্দোলনকারী, পুলিশ সদস্য এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জনকে আটক করা হয়েছে।
সরকারের কড়া অবস্থান
এদিকে বিটিআরসি ভবন পরিদর্শন শেষে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্পষ্ট করে বলেন, এনইআইআর সিস্টেম বন্ধ করবে না সরকার। একই সঙ্গে বিটিআরসি ভবনে হামলার সঙ্গে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।















