সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ সফল অস্ত্রোপচারের পর আশার আলো: সুস্থতার পথে ছোট্ট সাইফা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শহিদুল্লাহর পিতা আবুল কাশেম মিয়া ইন্তেকাল। আতাউর রহমান হুমায়ুন কবিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কাজিপুরের গান্ধাইলবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ড. আব্দুস সাত্তার পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব : “প্রতিবাদী কণ্ঠ” লেখা জার্সি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রক্তসৈনিক ও সমাজসেবক সুমন রাফি

১০ লাখ মুক্তিপণের নাটক শেষে পোলট্রি ব্যবসায়ী মামুনকে টুকরো করে বস্তাবন্দি হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫ ৭১ বার পড়া হয়েছে


রাঙ্গামাটির কাউখালীতে নিখোঁজের ৮ দিন পর পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের (২৫) বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কাউখালীর মাঝেরপাড়া এলাকায় একটি বস্তা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামুনের সাবেক কর্মচারী মো. কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯)-কে।

অপহরণ থেকে শুরু, শেষ হয় খুনে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই বিকেলে নিখোঁজ হন মামুন। সেদিন রাতেই স্ত্রীকে ফোন করে দুটি ব্যাংক চেক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকার এক ব্যক্তিকে পৌঁছে দিতে বলেন মামুন। ফোনে তিনি জানান, ঝামেলায় আছেন, তবে চিন্তার কিছু নেই।

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মামুনকে চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করে তারই সাবেক কর্মচারী কামরুল ও তার স্ত্রী। এরপর লাশ দুটি খণ্ডে বিভক্ত করে বস্তাবন্দি করে কাউখালীর মাঝেরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে পুঁতে ফেলা হয়।

মুক্তিপণের নাটক
৮ জুলাই মামুনের স্ত্রীর ফোনে আসে একটি কল, যার নম্বর ছিল মামুনেরই। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, মামুন অপহৃত, এবং তাকে ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
ঘটনার পরদিন মামুনের স্ত্রী কাউখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তদন্তে নামে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে চেক নেওয়া ব্যক্তি আনোয়ারকে।

সাবেক কর্মচারীই খুনি
আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি। তদন্তে উঠে আসে মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুলের নাম। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার (১৪ জুলাই) লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামরুলকে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার
গ্রেপ্তারের পর কামরুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, রানীরহাটে তার ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ মামুনকে ডেকে চা খাওয়ান। সেই চায়ের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মেশানো হয়। অচেতন হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে দেহ কেটে দুই টুকরো করে বস্তায় ভরে কাউখালীতে এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর মামুনের ফোন দিয়ে কল করে মুক্তিপণ দাবি করে কামরুল। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

ঘাতক দম্পতি গ্রেপ্তার, তদন্ত চলমান
পুলিশের কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কামরুল আগে মামুনের কর্মচারী ছিলেন, তবে পরে তারা একসাথে ব্যবসাও শুরু করেন। ব্যবসায় ঝামেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এই ঘটনায় কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল আসামি কামরুলকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

১০ লাখ মুক্তিপণের নাটক শেষে পোলট্রি ব্যবসায়ী মামুনকে টুকরো করে বস্তাবন্দি হত্যা, গ্রেপ্তার স্বামী-স্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই ২০২৫


রাঙ্গামাটির কাউখালীতে নিখোঁজের ৮ দিন পর পোলট্রি ব্যবসায়ী মো. মামুনের (২৫) বস্তাবন্দি দ্বিখণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) কাউখালীর মাঝেরপাড়া এলাকায় একটি বস্তা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামুনের সাবেক কর্মচারী মো. কামরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী সাথী আক্তার (১৯)-কে।

অপহরণ থেকে শুরু, শেষ হয় খুনে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই বিকেলে নিখোঁজ হন মামুন। সেদিন রাতেই স্ত্রীকে ফোন করে দুটি ব্যাংক চেক চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রানীরহাট বাজার এলাকার এক ব্যক্তিকে পৌঁছে দিতে বলেন মামুন। ফোনে তিনি জানান, ঝামেলায় আছেন, তবে চিন্তার কিছু নেই।

কিন্তু এর কিছুক্ষণ পরই ঘটে চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মামুনকে চায়ের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা করে তারই সাবেক কর্মচারী কামরুল ও তার স্ত্রী। এরপর লাশ দুটি খণ্ডে বিভক্ত করে বস্তাবন্দি করে কাউখালীর মাঝেরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে পুঁতে ফেলা হয়।

মুক্তিপণের নাটক
৮ জুলাই মামুনের স্ত্রীর ফোনে আসে একটি কল, যার নম্বর ছিল মামুনেরই। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, মামুন অপহৃত, এবং তাকে ফেরত পেতে হলে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে।
ঘটনার পরদিন মামুনের স্ত্রী কাউখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ তদন্তে নামে এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করে চেক নেওয়া ব্যক্তি আনোয়ারকে।

সাবেক কর্মচারীই খুনি
আনোয়ারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি। তদন্তে উঠে আসে মামুনের সাবেক কর্মচারী কামরুলের নাম। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত সোমবার (১৪ জুলাই) লক্ষ্মীপুর জেলার ভবানীগঞ্জ এলাকার এক বন্ধুর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় কামরুলকে।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার
গ্রেপ্তারের পর কামরুল পুলিশের কাছে স্বীকার করেন, রানীরহাটে তার ভাড়া বাসায় স্ত্রীসহ মামুনকে ডেকে চা খাওয়ান। সেই চায়ের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মেশানো হয়। অচেতন হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে দেহ কেটে দুই টুকরো করে বস্তায় ভরে কাউখালীতে এনে মাটিচাপা দেওয়া হয়।

পুলিশের তথ্যমতে, হত্যার পর মামুনের ফোন দিয়ে কল করে মুক্তিপণ দাবি করে কামরুল। ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত।

ঘাতক দম্পতি গ্রেপ্তার, তদন্ত চলমান
পুলিশের কাপ্তাই সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কামরুল আগে মামুনের কর্মচারী ছিলেন, তবে পরে তারা একসাথে ব্যবসাও শুরু করেন। ব্যবসায় ঝামেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম সোহাগ জানান, এই ঘটনায় কাউখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মূল আসামি কামরুলকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।