সর্বশেষ
মির্জাগঞ্জে ডাকবাংলোর সংষ্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশ: ৩০ জুনের অভিযোগ ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ, আইডিআরএকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি: জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বন্যার্ত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ, তিন উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বালিয়াডাঙ্গীতে ৩২ মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোজাম গ্রেফতার বালিয়াডাঙ্গীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের খানসামায় কৃষকদের মাঝে চারা, গোবর সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।