সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ সফল অস্ত্রোপচারের পর আশার আলো: সুস্থতার পথে ছোট্ট সাইফা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শহিদুল্লাহর পিতা আবুল কাশেম মিয়া ইন্তেকাল। আতাউর রহমান হুমায়ুন কবিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কাজিপুরের গান্ধাইলবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ড. আব্দুস সাত্তার পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব : “প্রতিবাদী কণ্ঠ” লেখা জার্সি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রক্তসৈনিক ও সমাজসেবক সুমন রাফি

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ১০১ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।