সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“সব দিক থেকে আগুন, কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই শেষ”—বিমান দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা শিক্ষকের করুণ অভিজ্ঞতা

আপডেট সময় : ০৮:২৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ চত্বরে বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এখন পর্যন্ত এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন, যাদের অধিকাংশই শিশু শিক্ষার্থী।

দুর্ঘটনার পর ভয়াবহ আগুন থেকে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান মাইলস্টোন কলেজের একজন শিক্ষক। ভয়াল সেই মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি এতটা হঠাৎ ঘটেছে যে কেউ কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনে চারদিক ঢেকে যায়। দৃষ্টিসীমা একদম কমে আসে। আমি শুধু আগুন আর ধোঁয়া দেখতে পাচ্ছিলাম।”

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় স্কুল ছুটির ঘণ্টা বাজছিল এবং শিক্ষার্থীরা তখন গেটে অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ আছড়ে পড়া বিমানের আগুন মুহূর্তেই পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে।

শিক্ষকের বর্ণনায় ভয়াবহ সেই মুহূর্ত:

“আমার হাত পুড়ে গেছে, মুখ আর কান ঝলসে গেছে। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। দ্রুত পাশের ওয়াশরুমে গিয়ে একটি ভেজা কাপড় এনে নাক ঢাকি, কাছাকাছি থাকা শিক্ষার্থীদেরও একইভাবে করতে বলি। তখন অনেকের শার্টে আগুন ধরে গিয়েছিল। আমি তাদের নিচু হয়ে থাকতে বলি, যাতে ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই শিক্ষক নিজে আহত হয়েও অন্যদের বাঁচাতে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা তিন শিক্ষার্থীকে তিনি বের করে আনতে সক্ষম হন। এদের একজন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় বর্তমানে সিএমএইচ-এর বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন।

“ওই শিশুটির শরীরের অনেক অংশে চামড়া উঠে গিয়েছিল,”—বলতে গিয়ে থমকে যান শিক্ষক। তিনি বলেন, “আমার গায়ের কাপড় ছিঁড়ে তাকে মুড়িয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাই। নিজের অসহ্য যন্ত্রণা সত্ত্বেও আমি ওদের শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি।”

এই করুণ অভিজ্ঞতা কেবল একটি মানুষের গল্প নয়—এটি একটি জাতির হৃদয়ে স্থায়ী ক্ষত হয়ে থাকবে।