সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

“রাশিয়ার সহযোগিতা চাই, তবে অন্য ইস্যুতে”— ট্রাম্প

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে


ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। তবে ট্রাম্প তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানিয়েছেন নিজেই।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,

“আপনারা জানেন, পুতিন আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানতে চাইলেন—ইরান বিষয়ে কি তিনি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারেন? আমি বললাম—না, ইরান নিয়ে আমার সহায়তার প্রয়োজন নেই। বরং আমি চাই, রাশিয়ার সঙ্গে আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছাই।”

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমি আশাবাদী—রাশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তি হবে। যদিও এই চেষ্টাই অনেকে হতাশার চোখে দেখছেন। গত সপ্তাহেই ছয় হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।”

ন্যাটো সম্মেলন ও ইউক্রেন ইস্যু

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন নেদারল্যান্ডসের হেগে ২৪–২৫ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে ট্রাম্পের ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আরও বিস্তারিত কিছু না বললেও, পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে ইউক্রেনে। কারণ, ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে কিয়েভে ফের হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

রাশিয়া-ইরান ঘনিষ্ঠতা: পশ্চিমা শঙ্কা

রাশিয়া এবং ইরান বর্তমানে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রিক আগ্রাসনের পর, মস্কোকে হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে তেহরান। এসব ড্রোন নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার জন্য।

এছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দুই দেশ পারমাণবিক কর্মসূচিতেও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। এই সম্পর্ক ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প কৌশলগতভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র স্বনির্ভর থাকতে চায়। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি একদিকে যেমন সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

“রাশিয়ার সহযোগিতা চাই, তবে অন্য ইস্যুতে”— ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০১:২৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ জুন ২০২৫


ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। তবে ট্রাম্প তা বিনয়ের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন বলে জানিয়েছেন নিজেই।

ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,

“আপনারা জানেন, পুতিন আমাকে ফোন করেছিলেন। তিনি জানতে চাইলেন—ইরান বিষয়ে কি তিনি কোনোভাবে সহায়তা করতে পারেন? আমি বললাম—না, ইরান নিয়ে আমার সহায়তার প্রয়োজন নেই। বরং আমি চাই, রাশিয়ার সঙ্গে আমরা একটা চুক্তিতে পৌঁছাই।”

ট্রাম্প আরও যোগ করেন, “আমি আশাবাদী—রাশিয়ার সঙ্গে একটি কার্যকর চুক্তি হবে। যদিও এই চেষ্টাই অনেকে হতাশার চোখে দেখছেন। গত সপ্তাহেই ছয় হাজার মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছে।”

ন্যাটো সম্মেলন ও ইউক্রেন ইস্যু

এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন নেদারল্যান্ডসের হেগে ২৪–২৫ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে ট্রাম্পের ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আরও বিস্তারিত কিছু না বললেও, পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে ইউক্রেনে। কারণ, ইউক্রেন ও পশ্চিমা মিত্রদের বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করে কিয়েভে ফের হামলা শুরু করেছে রুশ বাহিনী।

রাশিয়া-ইরান ঘনিষ্ঠতা: পশ্চিমা শঙ্কা

রাশিয়া এবং ইরান বর্তমানে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখছে। ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রিক আগ্রাসনের পর, মস্কোকে হাজার হাজার শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করেছে তেহরান। এসব ড্রোন নিয়মিত ব্যবহৃত হচ্ছে ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে হামলার জন্য।

এছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া দুই দেশ পারমাণবিক কর্মসূচিতেও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করেছে বলে জানা গেছে। এই সম্পর্ক ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে

বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সহায়তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প কৌশলগতভাবে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র স্বনির্ভর থাকতে চায়। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি একদিকে যেমন সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জটিলতা আরও বাড়তে পারে।