সর্বশেষ
মৃত ব্যক্তির নামে ফেক আইডি ও অপপ্রচার : মানবিক সংগঠনকে ঘিরে সংঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ময়মনসিংহে আন্তর্জাতিক রেড ক্রিসেন্ট দিবস বর্ণাঢ্য আয়োজনে পালিত বেনাপোল কাস্টমসের অর্জন: ৭৩০ কেজি ভারতীয় রুই মাছ আটক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে ১,০০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার -০১ যশোরে বিজিবির অভিযানে ৭ কোটি টাকার স্বর্ণসহ ৩ জন আ/টক ভোলার চরফ্যাশনে আদালত থেকে জামিন পেলেন মাস্টার মহিউদ্দিন হাওলাদার বেনাপোলে সাংবাদিক রাব্বীর ওপর হামলা: এক মাসেও গ্রেফতার নেই, ক্ষোভে সাংবাদিক সমাজ খানসামায় প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত দর্শনে চাঞ্চল্যকর ঘটনা: অন্তঃসত্তা শিশুর অভিযোগে মাদ্রাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার, ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর বেগমগঞ্জে বিতর্কিত ইউপি সদস্য পলাশের বিরুদ্ধে সালিশ ও মামলা ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

জিন প্রকৌশল ও এআই দিয়ে ‘সুপার রেস’ তৈরির ছক: এপস্টেইনের পরিকল্পনায় আতঙ্কিত হয়েছিলেন তার আইনজীবীও

মোঃ আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ১০:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৮০ বার পড়া হয়েছে


কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথিতে রাজনীতিক, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি উঠে এসেছে ভয়াবহ সব যৌন অপরাধ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত বিবরণ।
তবে এসব নথির মধ্য থেকে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি দলিল ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন জিন প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানবজাতির একটি তথাকথিত উন্নততর ‘সুপার রেস’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।
নিউ মেক্সিকোর র‍্যাঞ্চে ভয়ংকর স্বপ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এপস্টেইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’-কেই তিনি নিজের ভয়াবহ পরিকল্পনার পরীক্ষাগার হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল নিজের বীর্য বা ডিএনএ ব্যবহার করে একসঙ্গে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করা এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মানব প্রজন্মে নিজের জিন বিস্তার করা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই একই র‍্যাঞ্চে অতীতে নাবালিকাসহ অসংখ্য নারী এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক প্রকল্প’-এর আড়ালে থাকা তার বিকৃত মানসিকতা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
ট্রান্সহিউম্যানিজম না আধুনিক ইউজেনিক্স?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপস্টেইনের এই চিন্তাধারা বাহ্যিকভাবে ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’-এর সঙ্গে মিল থাকলেও বাস্তবে এটি নাৎসি আমলের কুখ্যাত ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার আধুনিক ও আরও বিপজ্জনক রূপ। মানবজাতিকে কৃত্রিমভাবে “উন্নত” করার এই ধারণা ইতিহাসে ভয়াবহ পরিণতির জন্ম দিয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাধিক নামকরা বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
বিজ্ঞান ও গবেষণায় অর্থায়নের বিতর্ক
তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রোগ্রাম ফর ইভোলিউশনারি ডায়নামিক্স’-এ এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেন। এসব অনুদান নিয়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
আইনজীবীর ভাষায় ‘ন্যক্কারজনক ও ভয়ংকর’
এপস্টেইনের এই পরিকল্পনার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়েছিলেন তার নিজস্ব আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটস। তিনি বলেন,
“১৯৩০-এর দশকে নাৎসিদের ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়াবহ ইতিহাস জানার পরও এপস্টেইনের এ ধরনের জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বিপজ্জনক।”
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইনের কাহিনি শুধু একজন অপরাধীর বিকৃত মানসিকতার গল্প নয়, বরং ক্ষমতা, অর্থ ও বিজ্ঞানের অপব্যবহার কীভাবে মানবতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে—তারই ভয়ংকর উদাহরণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জিন প্রকৌশল ও এআই দিয়ে ‘সুপার রেস’ তৈরির ছক: এপস্টেইনের পরিকল্পনায় আতঙ্কিত হয়েছিলেন তার আইনজীবীও

আপডেট সময় : ১০:৫৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের গোপন নথি প্রকাশের পর বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত প্রায় ৩০ লাখ নথিতে রাজনীতিক, ধনকুবের ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পাশাপাশি উঠে এসেছে ভয়াবহ সব যৌন অপরাধ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিস্তৃত বিবরণ।
তবে এসব নথির মধ্য থেকে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রকাশিত একটি দলিল ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এপস্টেইন জিন প্রকৌশল ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানবজাতির একটি তথাকথিত উন্নততর ‘সুপার রেস’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন।
নিউ মেক্সিকোর র‍্যাঞ্চে ভয়ংকর স্বপ্ন
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত এপস্টেইনের ‘জোরো র‍্যাঞ্চ’-কেই তিনি নিজের ভয়াবহ পরিকল্পনার পরীক্ষাগার হিসেবে কল্পনা করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল নিজের বীর্য বা ডিএনএ ব্যবহার করে একসঙ্গে অন্তত ২০ জন নারীকে গর্ভবতী করা এবং এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ মানব প্রজন্মে নিজের জিন বিস্তার করা।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই একই র‍্যাঞ্চে অতীতে নাবালিকাসহ অসংখ্য নারী এপস্টেইনের যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে তথাকথিত ‘বৈজ্ঞানিক প্রকল্প’-এর আড়ালে থাকা তার বিকৃত মানসিকতা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
ট্রান্সহিউম্যানিজম না আধুনিক ইউজেনিক্স?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এপস্টেইনের এই চিন্তাধারা বাহ্যিকভাবে ‘ট্রান্সহিউম্যানিজম’-এর সঙ্গে মিল থাকলেও বাস্তবে এটি নাৎসি আমলের কুখ্যাত ‘ইউজেনিক্স’ বা সুপ্রজননবিদ্যার আধুনিক ও আরও বিপজ্জনক রূপ। মানবজাতিকে কৃত্রিমভাবে “উন্নত” করার এই ধারণা ইতিহাসে ভয়াবহ পরিণতির জন্ম দিয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, এপস্টেইন এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একাধিক নামকরা বিজ্ঞানী, গবেষক ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন।
বিজ্ঞান ও গবেষণায় অর্থায়নের বিতর্ক
তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রোগ্রাম ফর ইভোলিউশনারি ডায়নামিক্স’-এ এপস্টেইন প্রায় ৬৫ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে তিনি ‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ট্রান্সহিউম্যানিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এ ২০ হাজার ডলার দান করেন। এসব অনুদান নিয়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
আইনজীবীর ভাষায় ‘ন্যক্কারজনক ও ভয়ংকর’
এপস্টেইনের এই পরিকল্পনার কথা শুনে আতঙ্কিত হয়েছিলেন তার নিজস্ব আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটস। তিনি বলেন,
“১৯৩০-এর দশকে নাৎসিদের ইউজেনিক্স ব্যবহারের ভয়াবহ ইতিহাস জানার পরও এপস্টেইনের এ ধরনের জেনেটিক ম্যানিপুলেশনের আগ্রহ ছিল অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও বিপজ্জনক।”
বিশ্লেষকদের মতে, এপস্টেইনের কাহিনি শুধু একজন অপরাধীর বিকৃত মানসিকতার গল্প নয়, বরং ক্ষমতা, অর্থ ও বিজ্ঞানের অপব্যবহার কীভাবে মানবতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে—তারই ভয়ংকর উদাহরণ।