সর্বশেষ
মির্জাগঞ্জে ডাকবাংলোর সংষ্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশ: ৩০ জুনের অভিযোগ ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ, আইডিআরএকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি: জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বন্যার্ত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ, তিন উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বালিয়াডাঙ্গীতে ৩২ মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোজাম গ্রেফতার বালিয়াডাঙ্গীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের খানসামায় কৃষকদের মাঝে চারা, গোবর সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, হাসপাতালে উপচে পড়া রোগীর ভিড়

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫ ২০২ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা শহরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৫৩ জন রোগী। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৯৮ জন। একই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জন রোগীর। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে।

হাসপাতালগুলোতে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আবার অনেক হাসপাতালে রোগী চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালগুলোর অবস্থার বর্ণনা দিয়ে এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করছি। বেশির ভাগ রোগীই জ্বর, শরীরে ব্যথা, বমি এবং রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এই মুহূর্তে আমাদের বেড আর নেই, আমরা চেষ্টা করছি মেঝেতে অস্থায়ী বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং নিজের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফুলদানি, ফ্রিজের নিচের ট্রে, টব ও ড্রেন যেন পরিষ্কার থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং বিশ্রাম নিন।

রক্তে প্লেটলেট কমে গেলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

মশারি ব্যবহার করুন এবং দিনে রাতে মশা থেকে সাবধান থাকুন।

উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

(সঙ্গে ছবি দেওয়া যেতে পারে: হাসপাতালে রোগীর ভিড়, চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী, ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ব্যানার বা পোস্টার)

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজধানীতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, হাসপাতালে উপচে পড়া রোগীর ভিড়

আপডেট সময় : ০৬:৪০:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

ঢাকা শহরে ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ডেঙ্গুতে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭৫৩ জন রোগী। এর মধ্যে শুধু ঢাকা শহরেই চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৯৮ জন। একই সময়ের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ৬ জন রোগীর। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৩ জনে।

হাসপাতালগুলোতে বেড সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। অনেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা ইতোমধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে অনেক রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আবার অনেক হাসপাতালে রোগী চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সরা।

হাসপাতালগুলোর অবস্থার বর্ণনা দিয়ে এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি করছি। বেশির ভাগ রোগীই জ্বর, শরীরে ব্যথা, বমি এবং রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এই মুহূর্তে আমাদের বেড আর নেই, আমরা চেষ্টা করছি মেঝেতে অস্থায়ী বেড দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে এবং নিজের বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। যেসব জায়গায় পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে ফুলদানি, ফ্রিজের নিচের ট্রে, টব ও ড্রেন যেন পরিষ্কার থাকে, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:

ডেঙ্গু সন্দেহ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং বিশ্রাম নিন।

রক্তে প্লেটলেট কমে গেলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিন।

মশারি ব্যবহার করুন এবং দিনে রাতে মশা থেকে সাবধান থাকুন।

উপসংহার:
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ, সিটি করপোরেশন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব নয়। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

(সঙ্গে ছবি দেওয়া যেতে পারে: হাসপাতালে রোগীর ভিড়, চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী, ডেঙ্গু সচেতনতামূলক ব্যানার বা পোস্টার)