সর্বশেষ
নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ সফল অস্ত্রোপচারের পর আশার আলো: সুস্থতার পথে ছোট্ট সাইফা। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী, কার্যকর পদক্ষেপের দাবি,ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ শহিদুল্লাহর পিতা আবুল কাশেম মিয়া ইন্তেকাল। আতাউর রহমান হুমায়ুন কবিরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত কাজিপুরের গান্ধাইলবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহারের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ড. আব্দুস সাত্তার পলাশ মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনীর বেপরোয়া তাণ্ডব : “প্রতিবাদী কণ্ঠ” লেখা জার্সি জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রক্তসৈনিক ও সমাজসেবক সুমন রাফি

মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে সংঘবদ্ধ প্রতারণা—নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • আপডেট সময় : ১২:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে পরিচালিত একটি কথিত সংগঠনকে ঘিরে সংঘবদ্ধ প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে। “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন” নাম ব্যবহার করে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
প্রতারণার কৌশল: পদ-পদবী, চাকরি ও কার্ডের প্রলোভন
অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুল্লাহ আল আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ—ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সদস্য সংগ্রহ করতেন। সেখানে আকর্ষণীয় পদ-পদবী, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং মানবাধিকার কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হতো। পরবর্তীতে কার্ডের জন্য ১০০০ টাকা এবং কখনো ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত চক্র, যেখানে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে টার্গেট করে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। কেউ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা ব্লক করা হতো এবং নতুন গ্রুপ খুলে একই কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হতো।
ভুয়া ভাবমূর্তি তৈরির অভিযোগ


তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মানবিক কাজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেয়ার করে নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে উপস্থাপন করতেন নুরুল্লাহ আল আমিন। বিভিন্ন সময় “মানবিক প্রোগ্রাম” বা “সংগঠনের কার্যক্রম” এর নামে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও সামনে এসেছে।
নির্দিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
পুরান ঢাকার প্লাস্টিক ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদ অভিযোগ করেন, সাংগঠনিক পদ দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ২৯০০ টাকা নেওয়ার পর তাকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রতিশ্রুত কার্ডও প্রদান করা হয়নি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী আজিম মিয়া জানান, তাকে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও একটি গ্রুপে অনৈতিক ও বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় তাকে হঠাৎ করেই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অফিস স্থাপন ও আত্মগোপনের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের জন্য একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে অফিস ত্যাগ করে তিনি পিরোজপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান।
দেশব্যাপী ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমে অভিযোগ
বিশেষ করে সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। “সত্য ও ন্যায়ের পথে  চলবো” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায় ৫০০ ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আইনকে চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগ


ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, টাকা ফেরতের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং নুরুল্লাহ আল আমিন দাবি করেছেন, পূর্বে একাধিকবার কারাবরণ করলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠন পুনর্গঠনের আড়ালে নতুন কৌশল
জানা যায়, পূর্বে গঠিত ৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুনভাবে “টপ টেন” নামে আরেকটি গ্রুপ খুলে সীমিত সংখ্যক সদস্য নিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেন তিনি—যা প্রতারণার নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুরুল্লাহ আল আমিনের কোনো দৃশ্যমান বৈধ পেশা বা ব্যবসা নেই। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল, আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ বন্ধ করে এই প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে সংঘবদ্ধ প্রতারণা—নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অর্থ আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নামে পরিচালিত একটি কথিত সংগঠনকে ঘিরে সংঘবদ্ধ প্রতারণার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান নুরুল্লাহ আল আমিনের বিরুদ্ধে। “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাস্তবায়ন ও প্রশিক্ষণ হিট ফাউন্ডেশন” নাম ব্যবহার করে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
প্রতারণার কৌশল: পদ-পদবী, চাকরি ও কার্ডের প্রলোভন
অভিযোগ অনুযায়ী, নুরুল্লাহ আল আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে হোয়াটসঅ্যাপ—ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রুপ খুলে সদস্য সংগ্রহ করতেন। সেখানে আকর্ষণীয় পদ-পদবী, চাকরির প্রতিশ্রুতি এবং মানবাধিকার কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা হতো। পরবর্তীতে কার্ডের জন্য ১০০০ টাকা এবং কখনো ৫০০ টাকা করে আদায় করা হয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত চক্র, যেখানে পরিকল্পিতভাবে মানুষকে টার্গেট করে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। কেউ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া বা ব্লক করা হতো এবং নতুন গ্রুপ খুলে একই কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হতো।
ভুয়া ভাবমূর্তি তৈরির অভিযোগ


তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন মানবিক কাজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেয়ার করে নিজেকে সমাজসেবক হিসেবে উপস্থাপন করতেন নুরুল্লাহ আল আমিন। বিভিন্ন সময় “মানবিক প্রোগ্রাম” বা “সংগঠনের কার্যক্রম” এর নামে অর্থ সংগ্রহের ঘটনাও সামনে এসেছে।
নির্দিষ্ট ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
পুরান ঢাকার প্লাস্টিক ব্যবসায়ী পিন্টু আহমেদ অভিযোগ করেন, সাংগঠনিক পদ দেওয়ার নামে তার কাছ থেকে ২৯০০ টাকা নেওয়ার পর তাকে গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রতিশ্রুত কার্ডও প্রদান করা হয়নি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী আজিম মিয়া জানান, তাকে ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও একটি গ্রুপে অনৈতিক ও বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদ করায় তাকে হঠাৎ করেই পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘পরিকল্পিত প্রতারণা’ উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অফিস স্থাপন ও আত্মগোপনের অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, অল্প সময়ের জন্য একটি অফিস ভাড়া নিয়ে সেটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করা হয় এবং সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তীতে অফিস ত্যাগ করে তিনি পিরোজপুরে নিজ গ্রামের বাড়িতে আত্মগোপনে চলে যান।
দেশব্যাপী ভুক্তভোগী ও গণমাধ্যমে অভিযোগ
বিশেষ করে সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বহু মানুষ এ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। “সত্য ও ন্যায়ের পথে  চলবো” নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রায় ৫০০ ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন।
আইনকে চ্যালেঞ্জ করার অভিযোগ


ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, টাকা ফেরতের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। বরং নুরুল্লাহ আল আমিন দাবি করেছেন, পূর্বে একাধিকবার কারাবরণ করলেও তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়—এমন বক্তব্য দিয়ে তিনি ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সংগঠন পুনর্গঠনের আড়ালে নতুন কৌশল
জানা যায়, পূর্বে গঠিত ৩১ সদস্যের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিভাগীয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুনভাবে “টপ টেন” নামে আরেকটি গ্রুপ খুলে সীমিত সংখ্যক সদস্য নিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু করার চেষ্টা করেন তিনি—যা প্রতারণার নতুন ধাপ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুরুল্লাহ আল আমিনের কোনো দৃশ্যমান বৈধ পেশা বা ব্যবসা নেই। একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সহায়তায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার সংগঠনের নিবন্ধন বাতিল, আর্থিক লেনদেনের তদন্ত এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ বন্ধ করে এই প্রতারণা বন্ধ করা সম্ভব নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।