সর্বশেষ
নালিতাবাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধরা,পলাতক মুদি দোকানদার আজিম মিঞার প্রতিবাদমূলক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য, আলোচনায় পারি ফাউন্ডেশনের ফিরোজ আহমেদ পলাশ জামায়েতে ইসলামি যুব বিভাগ নালিতাবাড়ী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত ব্রাক্ষ্মণ পাড়া থানার ভয়ঙ্কর মাদক স্পটের নেতৃত্বে চৌকিদার শাহীন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা ১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে গাছের চারা বিতরণ সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজে রহস্যজনক ধীরগতি, জনদুর্ভোগ চরমে: জবাবদিহিতা কোথায়

নোয়াখালী প্রতিনিধি:সানজিদা অনু,,
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলমান সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজ জনসেবার পরিবর্তে যেন জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় না। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নতুন বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশ দিয়ে পুরাতন জেলখানা সড়কের সংস্কার কাজ তার অন্যতম উদাহরণ। এলাকাবাসীর দাবি, ছয় মাসে সম্পন্ন হওয়ার মতো একটি প্রকল্প প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি।

উন্নয়ন কাজের এই ধীরগতির মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঈদুল আজহার আগের দিন খোলা ড্রেনে পড়ে গুরুতর আহত হন মিঠু নামে এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে একটি রিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে তিনি খোলা ড্রেনে পড়ে যান। ড্রেনের ভেতরে বের হয়ে থাকা রড তার পেটে বিদ্ধ হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা করা হয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? যদি কোনো শিশু ওই ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারাত, তাহলে কি তখনও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ত?

এলাকাবাসী জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। খোলা ড্রেন ও অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজের কারণে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে নতুন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসমুখী সড়ক ও ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজও চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। একই চিত্র মাইজদী বাজারের পশ্চিম পাশের পুলিশ লাইন সড়কে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে জনগণের করের অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করা, খোলা ড্রেনগুলো জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর জনদুর্ভোগ চলতে পারে না। জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে কোনো প্রকল্পের ধীরগতি বড় হতে পারে না।

এখন প্রশ্ন একটাই—নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজের এই দীর্ঘসূত্রতার দায় কার, আর জনগণের দুর্ভোগের শেষ কোথায়?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজে রহস্যজনক ধীরগতি, জনদুর্ভোগ চরমে: জবাবদিহিতা কোথায়

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নোয়াখালী পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা, সমন্বয়হীনতা এবং কার্যকর তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলমান সড়ক ও ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজ জনসেবার পরিবর্তে যেন জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও অধিকাংশ কাজই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হয় না। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক বিলম্ব এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নতুন বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশ দিয়ে পুরাতন জেলখানা সড়কের সংস্কার কাজ তার অন্যতম উদাহরণ। এলাকাবাসীর দাবি, ছয় মাসে সম্পন্ন হওয়ার মতো একটি প্রকল্প প্রায় তিন বছরেও শেষ হয়নি।

উন্নয়ন কাজের এই ধীরগতির মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঈদুল আজহার আগের দিন খোলা ড্রেনে পড়ে গুরুতর আহত হন মিঠু নামে এক যুবক। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে একটি রিকশাকে সাইড দিতে গিয়ে তিনি খোলা ড্রেনে পড়ে যান। ড্রেনের ভেতরে বের হয়ে থাকা রড তার পেটে বিদ্ধ হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় নেওয়া হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা করা হয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? যদি কোনো শিশু ওই ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারাত, তাহলে কি তখনও কর্তৃপক্ষের টনক নড়ত?

এলাকাবাসী জানান, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। খোলা ড্রেন ও অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজের কারণে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

অন্যদিকে নতুন বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিম পাশ দিয়ে বিদ্যুৎ অফিসমুখী সড়ক ও ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজও চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। একই চিত্র মাইজদী বাজারের পশ্চিম পাশের পুলিশ লাইন সড়কে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন হাজারো পথচারী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালক।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও শেষ হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। ফলে জনগণের করের অর্থ ব্যয় হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।

এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করা, খোলা ড্রেনগুলো জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ করা এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, উন্নয়নের নামে বছরের পর বছর জনদুর্ভোগ চলতে পারে না। জনগণের জীবন ও নিরাপত্তার চেয়ে কোনো প্রকল্পের ধীরগতি বড় হতে পারে না।

এখন প্রশ্ন একটাই—নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজের এই দীর্ঘসূত্রতার দায় কার, আর জনগণের দুর্ভোগের শেষ কোথায়?