সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

ধোঁয়া ও ধুলার মধ্যেই পথ খুঁজে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা: ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত গাজা ও পশ্চিম তীর

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫ ১৫২ বার পড়া হয়েছে

ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার উত্তরাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলো আজ যেন এক মৃত্যুপুরী। আকাশে ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়া ও ধুলার মাঝে ফিলিস্তিনিরা কোনোমতে বেঁচে থাকার পথ খুঁজছে। শনিবার (২৪ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এই ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ১৯ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ৮২২ জন ফিলিস্তিনি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে হতাহতের সংখ্যা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরেও মানবিক বিপর্যয় চরমে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ৯৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৯৮ জন শিশু। এদের অধিকাংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুধু পশ্চিম তীরেই নিহত হয়েছেন ১৩২ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ২৫ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে। এই নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের মনে।

গাজা সিটির এক আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলার পর কালো ধোঁয়া আর ধুলার ভেতর দিয়ে হেঁটে ফিরছেন এক ফিলিস্তিনি নারী—এই দৃশ্য যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি।

শুধু প্রাণহানি নয়, বাস্তুচ্যুতিও এ যুদ্ধে আরেক বড় দুর্ভোগের নাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিন শরণার্থী শিবিরে পরিচালিত সামরিক অভিযানে প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাদের অনেকেই এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেননি।

ইসরায়েলের ধারাবাহিক ও নির্মম সামরিক অভিযানে গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা দিনে দিনে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনার পরও ইসরায়েলের নীতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি—এমনটাই জানাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

ছবি: আল জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ধোঁয়া ও ধুলার মধ্যেই পথ খুঁজে ফিরছে ফিলিস্তিনিরা: ইসরায়েলি হামলায় বিপর্যস্ত গাজা ও পশ্চিম তীর

আপডেট সময় : ০৮:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ মে ২০২৫

ইসরায়েলি বোমা হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজার উত্তরাঞ্চলের আবাসিক এলাকাগুলো আজ যেন এক মৃত্যুপুরী। আকাশে ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়া ও ধুলার মাঝে ফিলিস্তিনিরা কোনোমতে বেঁচে থাকার পথ খুঁজছে। শনিবার (২৪ মে) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এই ভয়াবহ বাস্তবতার চিত্র।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের ১৯ মাসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ৮২২ জন ফিলিস্তিনি। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে হতাহতের সংখ্যা।

অধিকৃত পশ্চিম তীরেও মানবিক বিপর্যয় চরমে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ৯৩৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৯৮ জন শিশু। এদের অধিকাংশই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত শুধু পশ্চিম তীরেই নিহত হয়েছেন ১৩২ জন ফিলিস্তিনি, যাদের মধ্যে ২৫ জনেরও বেশি শিশু রয়েছে। এই নিষ্ঠুরতার শেষ কোথায়, সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকারকর্মীদের মনে।

গাজা সিটির এক আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলি হামলার পর কালো ধোঁয়া আর ধুলার ভেতর দিয়ে হেঁটে ফিরছেন এক ফিলিস্তিনি নারী—এই দৃশ্য যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের প্রতিচ্ছবি।

শুধু প্রাণহানি নয়, বাস্তুচ্যুতিও এ যুদ্ধে আরেক বড় দুর্ভোগের নাম। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পশ্চিম তীরের নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিন শরণার্থী শিবিরে পরিচালিত সামরিক অভিযানে প্রায় ৪২ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা গৃহহীন হয়ে পড়েন। তাদের অনেকেই এখনো নিজ ঘরে ফিরতে পারেননি।

ইসরায়েলের ধারাবাহিক ও নির্মম সামরিক অভিযানে গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা দিনে দিনে আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কড়া সমালোচনার পরও ইসরায়েলের নীতিতে কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি—এমনটাই জানাচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

ছবি: আল জাজিরা