সর্বশেষ
মির্জাগঞ্জে ডাকবাংলোর সংষ্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশ: ৩০ জুনের অভিযোগ ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ, আইডিআরএকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি: জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বন্যার্ত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ, তিন উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বালিয়াডাঙ্গীতে ৩২ মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোজাম গ্রেফতার বালিয়াডাঙ্গীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের খানসামায় কৃষকদের মাঝে চারা, গোবর সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

চাটখিলে নববধূ সুমনা আক্তার সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: ভাঙা পা নিয়ে কীভাবে সিলিং ফ্যানে ফাঁসি? প্রশ্নে উত্তাল জনমন

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩২ বার পড়া হয়েছে


নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় নববধূ সুমনা আক্তার সাদিয়া (২৬)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। পরিবারের দৃঢ় অভিযোগ—এটি আত্মহত্যা নয়; বরং আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে সংঘটিত এক নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার দিন নিহতের মা রাহিমা বেগম চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় যে দৃশ্য সামনে আসে, তা আত্মহত্যার গল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে—সাদিয়ার একটি পা ভাঙা ছিল এবং ভাঙা পা থেকে রক্ত ঝরছিল।
এতেই জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—ভাঙা পা ও রক্তাক্ত অবস্থায় একজন নারী কীভাবে নিজে নিজে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিতে পারে? এলাকাবাসীর ভাষায়, “এটা আত্মহত্যা নয়—এটা নির্ঘাত সাজানো হত্যাকাণ্ড।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক অমতে ভালোবেসে সাদিয়া বিয়ে করেন শামসুল কোভিরকে। শামসুল কোভির চাটখিল উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পরকোট গ্রামের জালাল উদ্দিন মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন সাদিয়া—এমন অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মা রাহিমা বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, “আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।” তার এই আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে পুরো গ্রাম।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সঠিক তদন্ত না হলে এটি আরেকটি ‘চাপা পড়া হত্যাকাণ্ড’ হয়ে যাবে।
চাটখিল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশ্ন একটাই—ভাঙা পা, রক্তের দাগ, নির্যাতনের অভিযোগ আর বুকফাটা আর্তনাদের পরও কি এই মৃত্যু আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হবে? নাকি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তে উন্মোচিত হবে এক নববধূ হত্যার ভয়াবহ সত্য?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চাটখিলে নববধূ সুমনা আক্তার সাদিয়ার রহস্যজনক মৃত্যু: ভাঙা পা নিয়ে কীভাবে সিলিং ফ্যানে ফাঁসি? প্রশ্নে উত্তাল জনমন

আপডেট সময় : ০৫:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬


নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় নববধূ সুমনা আক্তার সাদিয়া (২৬)-এর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও প্রতিবাদের ঝড় বইছে। পরিবারের দৃঢ় অভিযোগ—এটি আত্মহত্যা নয়; বরং আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে সংঘটিত এক নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
ঘটনার দিন নিহতের মা রাহিমা বেগম চাটখিল থানায় অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তবে লাশ উদ্ধারের সময় যে দৃশ্য সামনে আসে, তা আত্মহত্যার গল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে—সাদিয়ার একটি পা ভাঙা ছিল এবং ভাঙা পা থেকে রক্ত ঝরছিল।
এতেই জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে—ভাঙা পা ও রক্তাক্ত অবস্থায় একজন নারী কীভাবে নিজে নিজে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁসি দিতে পারে? এলাকাবাসীর ভাষায়, “এটা আত্মহত্যা নয়—এটা নির্ঘাত সাজানো হত্যাকাণ্ড।”

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক অমতে ভালোবেসে সাদিয়া বিয়ে করেন শামসুল কোভিরকে। শামসুল কোভির চাটখিল উপজেলার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পরকোট গ্রামের জালাল উদ্দিন মাস্টার বাড়ির বাসিন্দা। বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে পারিবারিক কলহ ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন সাদিয়া—এমন অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মা রাহিমা বেগম বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, “আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।” তার এই আর্তনাদে কেঁপে উঠেছে পুরো গ্রাম।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানিয়ে দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, সঠিক তদন্ত না হলে এটি আরেকটি ‘চাপা পড়া হত্যাকাণ্ড’ হয়ে যাবে।
চাটখিল থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাটি অপমৃত্যু মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে প্রশ্ন একটাই—ভাঙা পা, রক্তের দাগ, নির্যাতনের অভিযোগ আর বুকফাটা আর্তনাদের পরও কি এই মৃত্যু আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হবে? নাকি প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তে উন্মোচিত হবে এক নববধূ হত্যার ভয়াবহ সত্য?