কড়াইল বস্তিতে মিনি শিশা কারখানা গুলশানে বিপুল গাঁজা জব্দ গ্রেফতার ৬
- আপডেট সময় : ১২:০৬:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে এবার গুলশান-বনানীর অভিজাত ‘শিশা বার’গুলোর অবৈধ মালামাল মজুত ও প্রস্তুতের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে পাশের কড়াইল বস্তিকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক ঝটিকা অভিযানে কড়াইল বস্তির একটি টিনশেড ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ শিশা, হুক্কা সেট ও সরঞ্জামসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে বনানীর একটি নামী শিশা বারের মালিককে মামলার আসামি করা হয়েছে।
এদিকে পৃথক আরেকটি অভিযানে খিলক্ষেত এলাকা থেকে ১৮ কেজি গাঁজাসহ আরও ৪ মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ডিএনসি।
কড়াইল বস্তিতে ‘এক্সোটিক লাউঞ্জ’ এর গোপন আস্তানা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ঢাকা মেট্রো উত্তর) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তেজগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক মোঃ তমিজ উদ্দিন মৃধার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল ২১ মে ২০২৬ খ্রিঃ উপপরিচালক শামীম আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ রেইডিং টিম বনানী থানাধীন কড়াইল বস্তির বিটিসিএল কলোনির কল্যাণ-১৫ নম্বর টিনশেড বাড়িতে অভিযান চালায়। জাহানারা বেগম (৫৫) নামের এক নারীর মালিকানাধীন ওই চার কক্ষের ঘরটি মূলত বনানী ১১ নম্বর রোডের আনজারা বিল্ডিংয়ের ৯ম তলায় অবস্থিত ‘Xotic Lounge’ (এক্সোটিক লাউঞ্জ) নামক শিশা বারের গোপন গুদাম ও কারখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
অভিযান দল সেখান থেকে:
* সর্বমোট অবৈধ শিশা: ২০ (বিশ) কেজি
* শিশা সেবনের হুক্কা সেট: ৩৪টি
* মাটির কলকি: ৭৪টি
* ব্যবহৃত কয়লা: ৪ কেজি
* মোবাইল ফোন: ১টি এবং
* এক্সোটিক লাউঞ্জের ৫০ পাতা নথিপত্র জব্দ করে।
জব্দকৃত এসব আলামতের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা।
যেভাবে চলতো এই অপরাধ চক্র:
জিজ্ঞাসাবাদ ও নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, ডিএনসির উপর্যুপরি অভিযানের কারণে গুলশান-বনানীর শিশা বার মালিকরা তটস্থ হয়ে পড়েছিল। তাই এক্সোটিক লাউঞ্জের মালিক শরীফ আল জাওয়াদ কড়াইল বস্তির ওই বাসাটি ভাড়া নেন। সেখানে অবৈধ শিশা ও সরঞ্জাম এনে গোপনে মাটির কলকিতে ভরে সেবনের উপযোগী করে রাখা হতো। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী সুযোগ বুঝে অদূরে অবস্থিত বনানীর মূল বারে তা সরবরাহ করা হতো।
এই ঘটনায় বাড়ির মালিক জাহানারা বেগম (৫৫) ও শাহীন রাড়ী (১৯) নামের দুইজনকে গ্রেফতার করা হলেও মূলহোতা ও বার মালিক শরীফ আল জাওয়াদ (৩৬) পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে।
খিলক্ষেতে বাস তল্লাশি করে ১৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার
অবৈধ শিশা বারের পাশাপাশি মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে গুলশান সার্কেল পরিদর্শক মোঃ এমদাদুল হক খানের নেতৃত্বে খিলক্ষেত বাসস্ট্যান্ডের রাজউক ট্রেড সেন্টার শপিং মলের সামনে ফুটপাতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে গাজীপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ১৮ কেজি অবৈধ গাঁজা উদ্ধার করে ডিএনসি টিম।
এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— মোঃ দেলোয়ার হোসেন (৪৬), ইরন মিয়া (৪৫), মোঃ ইয়াছিন (৩৯) এবং মোছাঃ আলেয়া বেগম (৪০)। এই চক্রটির বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে অবৈধ শিশা বার
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, গুলশান ও বনানী এলাকায় অবৈধ শিশা ব্যবসা সম্পূর্ণ নির্মূলের লক্ষ্যে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক অধিদপ্তর নিয়মিত এই সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে।
ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, অভিজাত এলাকার শিশা বারগুলোর অবৈধ কার্যক্রম এখন প্রায় নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে। অদূর ভবিষ্যতে গুলশান-বনানীসহ পুরো ঢাকা মহানগরীকে যেকোনো ধরনের অবৈধ শিশা বারের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করতে অধিদপ্তর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ






















