সর্বশেষ
যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে অবৈধ চোরাচালানী মালামাল আটক করেছে বিজিবি ফুলছড়িতে ঝড়ের কবলে পড়ে—ভিজিএফের ৪৬৭ বস্তা চালসহ ডুবে গেল দুই নৌকা আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে বাড়লা বিল: ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত, দিশেহারা কৃষক ময়মনসিংহ উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সুজাউদ্দিন না ফেরার দেশে চলে গেছেন সাংবাদিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির আহ্বান রামিসার মৃত্যু নয়, এটি সভ্যতার মুখে চপেটাঘাত অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনায় উপকৃত হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ নালিতাবাড়ীতে পথরোধ করে বিকাশ এজেন্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা মিরপুরে শিশু রামিসা হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা কারাগারে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা চট্টগ্রাম মহানগরীর আলোচনা সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দিকনির্দেশনা

রামিসার মৃত্যু নয়, এটি সভ্যতার মুখে চপেটাঘাত

নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রতিবাদী কন্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

পল্লবীর ঘটনায় ক্ষোভ, আতঙ্ক ও বিচার দাবিতে সোচ্চার জনতা
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও ন্যায়বিচারের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় উঠে এসেছে বিকৃত যৌন নির্যাতন, নির্মম হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় শিশুটির মা দরজায় কড়া নাড়লেও দীর্ঘ সময় দরজা খোলা হয়নি। ডিএমপির ভাষ্যমতে, সেই সময়ের মধ্যেই ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা খুলতে দেরি করেছেন বলেও অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যদি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধের উপর নির্মম আঘাত।
একটি শিশু, যে পৃথিবীকে দেখার আগেই নিষ্ঠুরতার শিকার—এই বাস্তবতা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। আজ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—এই দেশে শিশুরা কতটা নিরাপদ? কেন একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সামনে আসছে? আর কেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়?
সচেতন মহল বলছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে শুধু আইন থাকলেই হবে না, প্রয়োজন দ্রুত বিচার, সামাজিক প্রতিরোধ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান।
প্রতিবাদী কণ্ঠ মনে করে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। দোষী যেই হোক, তার পরিচয়, প্রভাব বা ক্ষমতা যেন বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। কারণ বিচারহীনতা শুধু অপরাধ বাড়ায় না, এটি সমাজে ভয়ঙ্কর বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।
আজ রামিসা নেই। কিন্তু তার নিথর দেহ যেন পুরো সমাজকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে—“আর কত শিশু এমন নির্মমতার শিকার হবে?”
এখন সময় নীরব থাকার নয়।
এখন সময় সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর।
এখন সময় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে একসঙ্গে জবাবদিহিতার আওতায় আনার

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

রামিসার মৃত্যু নয়, এটি সভ্যতার মুখে চপেটাঘাত

আপডেট সময় : ০৫:০৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

পল্লবীর ঘটনায় ক্ষোভ, আতঙ্ক ও বিচার দাবিতে সোচ্চার জনতা
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ, আতঙ্ক ও ন্যায়বিচারের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় উঠে এসেছে বিকৃত যৌন নির্যাতন, নির্মম হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার মতো ভয়াবহ অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় শিশুটির মা দরজায় কড়া নাড়লেও দীর্ঘ সময় দরজা খোলা হয়নি। ডিএমপির ভাষ্যমতে, সেই সময়ের মধ্যেই ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বামীকে বাঁচাতে স্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে দরজা খুলতে দেরি করেছেন বলেও অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
যদি তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়—এটি মানবতা, নৈতিকতা ও সামাজিক নিরাপত্তাবোধের উপর নির্মম আঘাত।
একটি শিশু, যে পৃথিবীকে দেখার আগেই নিষ্ঠুরতার শিকার—এই বাস্তবতা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। আজ মানুষ প্রশ্ন তুলছে—এই দেশে শিশুরা কতটা নিরাপদ? কেন একের পর এক শিশু নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা সামনে আসছে? আর কেন অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়?
সচেতন মহল বলছে, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে শুধু আইন থাকলেই হবে না, প্রয়োজন দ্রুত বিচার, সামাজিক প্রতিরোধ এবং নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থান।
প্রতিবাদী কণ্ঠ মনে করে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। দোষী যেই হোক, তার পরিচয়, প্রভাব বা ক্ষমতা যেন বিচারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে। কারণ বিচারহীনতা শুধু অপরাধ বাড়ায় না, এটি সমাজে ভয়ঙ্কর বার্তাও ছড়িয়ে দেয়।
আজ রামিসা নেই। কিন্তু তার নিথর দেহ যেন পুরো সমাজকে প্রশ্ন করে যাচ্ছে—“আর কত শিশু এমন নির্মমতার শিকার হবে?”
এখন সময় নীরব থাকার নয়।
এখন সময় সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর।
এখন সময় শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও সমাজকে একসঙ্গে জবাবদিহিতার আওতায় আনার