সর্বশেষ
মির্জাগঞ্জে ডাকবাংলোর সংষ্কার কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ইসলামী ইন্স্যুরেন্সে অনিয়মের অভিযোগে হাইকোর্টের নির্দেশ: ৩০ জুনের অভিযোগ ২৬ অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তির আদেশ, আইডিআরএকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বন্যা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি: জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত চট্টগ্রামে বন্যার্ত মানুষের পাশে পল্লী বিদ্যুৎ, তিন উপজেলায় ২ হাজার ৫০০ ত্রাণ প্যাকেট বিতরণ পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হলেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বালিয়াডাঙ্গীতে ৩২ মামলার আসামী কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী মোজাম গ্রেফতার বালিয়াডাঙ্গীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এরশাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত কীর্তনখোলায় মাঝিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি: স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়েরের নির্দেশ আদালতের খানসামায় কৃষকদের মাঝে চারা, গোবর সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক মাস্টার প্যারেড অনুষ্ঠিত

আহত শিশুদের জন্য রক্তদানে মানুষের ঢল, ও নেগেটিভ রক্তদাতাদের উপস্থিতি বেশি

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫ ১৯৫ বার পড়া হয়েছে

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় করছেন রক্তদাতা সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন শুধুমাত্র রক্ত দেওয়ার জন্য।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে সরেজমিনে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ইনস্টিটিউট চত্বরে রক্তদাতাদের নাম, রক্তের গ্রুপ ও যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করছেন। রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রোভার স্কাউট সদস্য মো. হাসান জানান, “আমরা এখন রক্তদাতাদের তালিকা করছি। ৮ম তলার ব্লাড ব্যাংক থেকে সংকেত পেলেই একে একে রক্ত নেওয়া শুরু হবে। আশা করছি, এক ঘণ্টার মধ্যে বুথ চালু হয়ে যাবে।”

এদিকে রক্তদাতাদের মধ্যে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপধারীদের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। ও নেগেটিভ রক্তের একজন দাতা বলেন, “আমার গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। শুনলাম এই গ্রুপের রক্ত দরকার, তাই দেরি না করে চলে এসেছি। শিশুগুলো যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, এই প্রার্থনাতেই রক্ত দিতে এসেছি।”

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা একজন তরুণ বলেন, “রক্তের জন্য কেউ কষ্টে থাকবে, আর আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকব—এটা হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছি।”

নারীরাও রক্তদানে পিছিয়ে নেই। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা এক নারী জানান, “আমি এবং আমার এক আত্মীয় রক্ত দিতে এসেছি। আরও কয়েকজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমরা চাই, আহত শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।”

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত পর্যাপ্ত রক্তের মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো গ্রুপে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

দেশজুড়ে এই মানবিক সহানুভূতির ঢল আমাদের সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আহত শিশুদের জন্য রক্তদানে মানুষের ঢল, ও নেগেটিভ রক্তদাতাদের উপস্থিতি বেশি

আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহতদের রক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল থেকেই রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভিড় করছেন রক্তদাতা সাধারণ মানুষ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের নানা প্রান্ত থেকে লোকজন ছুটে আসছেন শুধুমাত্র রক্ত দেওয়ার জন্য।

সকাল পৌনে ৯টার দিকে সরেজমিনে বার্ন ইনস্টিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, রোভার স্কাউট ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা ইনস্টিটিউট চত্বরে রক্তদাতাদের নাম, রক্তের গ্রুপ ও যোগাযোগ নম্বর সংগ্রহ করছেন। রক্ত দেওয়ার জন্য প্রস্তুত অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।

রোভার স্কাউট সদস্য মো. হাসান জানান, “আমরা এখন রক্তদাতাদের তালিকা করছি। ৮ম তলার ব্লাড ব্যাংক থেকে সংকেত পেলেই একে একে রক্ত নেওয়া শুরু হবে। আশা করছি, এক ঘণ্টার মধ্যে বুথ চালু হয়ে যাবে।”

এদিকে রক্তদাতাদের মধ্যে নেগেটিভ ব্লাড গ্রুপধারীদের সংখ্যা বেশি বলে জানা গেছে। ও নেগেটিভ রক্তের একজন দাতা বলেন, “আমার গ্রুপ ‘ও নেগেটিভ’। শুনলাম এই গ্রুপের রক্ত দরকার, তাই দেরি না করে চলে এসেছি। শিশুগুলো যেন সুস্থ হয়ে ওঠে, এই প্রার্থনাতেই রক্ত দিতে এসেছি।”

যাত্রাবাড়ী থেকে আসা একজন তরুণ বলেন, “রক্তের জন্য কেউ কষ্টে থাকবে, আর আমরা নিশ্চিন্তে বসে থাকব—এটা হতে পারে না। তাই ছুটে এসেছি।”

নারীরাও রক্তদানে পিছিয়ে নেই। কেরানীগঞ্জ থেকে আসা এক নারী জানান, “আমি এবং আমার এক আত্মীয় রক্ত দিতে এসেছি। আরও কয়েকজন আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। আমরা চাই, আহত শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুক।”

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত পর্যাপ্ত রক্তের মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে কোনো গ্রুপে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে তারা।

দেশজুড়ে এই মানবিক সহানুভূতির ঢল আমাদের সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।