সর্বশেষ
শার্শার বিশেষ প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মাঝে আলোকিত নারী সংস্থার শিক্ষা উপকরণ বিতরণ বেনাপোলে নাশকতা মামলায় পৌর ছাত্রলীগ নেতাসহ দুই আঃলীগ কর্মী আটক বেনাপোল পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ত্রৈমাসিক সভা অনুষ্ঠিত শার্শার বেনাপোল দিয়ে ভারতে কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন ২ তরুণী কাজিপুরে থানা চত্বরে মদসহ গ্রেফতার ১ জন পুলিশের পৃথক চলমান অভিযানে শার্শা ও ডিহি থেকে গাঁজা-ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার নেত্রকোণায় নাজু হত্যায় নুরুল আমিনের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে শার্শা থানা পুলিশ শার্শায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে সাবেক দুই মেম্বারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার শেরপুরের পাহাড়-বনের নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নালিতাবাড়ীর মধুটিলা ইকোপার্ক

আখাউড়ায় ‘অলৌকিক গাছ’ ঘিরে গুজবের ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

মাজার বানানোর চেষ্টা ঠেকালো প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ‘অলৌকিকতা’র গুজব শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থেমে গেছে। স্থানীয়ভাবে সেটিকে কেন্দ্র করে মাজারে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ উঠলেও দ্রুত পদক্ষেপে গাছটি অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক এক ঝড়ে একটি বড় গাছ আংশিকভাবে উপড়ে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকেই গাছটি নিয়ে এলাকায় অস্বাভাবিক প্রচারণা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে—গাছটি নাকি নিজে থেকেই আবার দাঁড়িয়ে গেছে।

এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে। গাছের চারপাশে লাল কাপড় বাঁধা হয়, অনেকে একে ‘পবিত্র’ বা ‘অলৌকিক’ স্থান হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী চক্র গাছের বাকল, শিকড় ও ছালকে বিভিন্ন রোগ বা মানত পূরণের উপাদান হিসেবে প্রচার করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে আগরবাতি জ্বালানো, মানত করা এবং প্রার্থনা পর্যন্ত শুরু করেন। কেউ কেউ সন্তান না হওয়া বা রোগমুক্তির আশায় গাছের ‘শক্তি’ নিয়ে নানা বিশ্বাসে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কুসংস্কার ও গুজবের বিস্তার রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঘটনাটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারত এবং একটি কুসংস্কারনির্ভর ভ্রান্ত বিশ্বাসের কেন্দ্র গড়ে উঠত।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যাচাইবিহীন তথ্য খুব দ্রুত মানুষের বিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। এতে করে অনেক সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারণামূলক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এলাকার প্রবীণরা বলছেন, অতীতেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাছ, পাথর বা প্রাকৃতিক বস্তু ঘিরে এমন ‘অলৌকিক’ প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই শুরু থেকেই এ ধরনের ঘটনায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে আখাউড়ার এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল—গুজব কত দ্রুত বাস্তবতার রূপ নিতে পারে, আর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আখাউড়ায় ‘অলৌকিক গাছ’ ঘিরে গুজবের ঝড়

আপডেট সময় : ০১:৩৬:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

মাজার বানানোর চেষ্টা ঠেকালো প্রশাসন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঝড়ে উপড়ে পড়া একটি গাছকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ‘অলৌকিকতা’র গুজব শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে থেমে গেছে। স্থানীয়ভাবে সেটিকে কেন্দ্র করে মাজারে রূপ দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ উঠলেও দ্রুত পদক্ষেপে গাছটি অপসারণ করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক এক ঝড়ে একটি বড় গাছ আংশিকভাবে উপড়ে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। কিন্তু এর কিছুদিন পর থেকেই গাছটি নিয়ে এলাকায় অস্বাভাবিক প্রচারণা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে—গাছটি নাকি নিজে থেকেই আবার দাঁড়িয়ে গেছে।

এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে। গাছের চারপাশে লাল কাপড় বাঁধা হয়, অনেকে একে ‘পবিত্র’ বা ‘অলৌকিক’ স্থান হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু স্বার্থান্বেষী চক্র গাছের বাকল, শিকড় ও ছালকে বিভিন্ন রোগ বা মানত পূরণের উপাদান হিসেবে প্রচার করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছিল।

অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন এসে আগরবাতি জ্বালানো, মানত করা এবং প্রার্থনা পর্যন্ত শুরু করেন। কেউ কেউ সন্তান না হওয়া বা রোগমুক্তির আশায় গাছের ‘শক্তি’ নিয়ে নানা বিশ্বাসে জড়িয়ে পড়েন।

এক পর্যায়ে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় প্রশাসনের। আখাউড়া উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সচেতন নাগরিক ও ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ গাছটি কেটে সরিয়ে ফেলা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কুসংস্কার ও গুজবের বিস্তার রোধ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ঘটনাটি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারত এবং একটি কুসংস্কারনির্ভর ভ্রান্ত বিশ্বাসের কেন্দ্র গড়ে উঠত।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো যাচাইবিহীন তথ্য খুব দ্রুত মানুষের বিশ্বাসে প্রভাব ফেলে। এতে করে অনেক সময় ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রতারণামূলক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এলাকার প্রবীণরা বলছেন, অতীতেও দেশের বিভিন্ন জায়গায় গাছ, পাথর বা প্রাকৃতিক বস্তু ঘিরে এমন ‘অলৌকিক’ প্রচারণার ঘটনা ঘটেছে, যা পরবর্তীতে গুজব হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই শুরু থেকেই এ ধরনের ঘটনায় কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে আখাউড়ার এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল—গুজব কত দ্রুত বাস্তবতার রূপ নিতে পারে, আর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে।