সর্বশেষ
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু, ইরানে ৪০ দিনের গণশোক ঘোষণাআন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রতিবাদী কণ্ঠ’র ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসীমউদ্দীনের পা ভেঙেছে, সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা মানবিক সংগঠন ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর আজীবন সদস্য তাজুল গুরুতর অসুস্থ, দোয়ার আহ্বান রাজধানীর বকশীবাজারে ‘প্রতিবাদী কণ্ঠ’-এর ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শতাধিক অসহায় মানুষের মুখে হাসিনিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | কামরুল ইসলাম শুভ’র জন্মদিন – কেক কাটা সম্পন্ন, বিয়ে এখনো ‘লোডিং…’! সুন্দরবনে দস্যু দমনে জিরো টলারেন্স, নিরাপত্তা জোরদারে সমন্বিত অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সৌদি প্রবাসী মোঃ সুজন ঢালী প্রতিবাদী কন্ঠের আজীবন সদস্য — মানবিক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকার অঙ্গীকার মাদক বিরোধের জেরে রক্তাক্ত প্রতিশোধ: চরফ্যাশনে কুপিয়ে হত্যা রহিম ভূট্টু বেনাপোলের মানবাধিকার নেতা মিজানুর রহমান গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনায় আহত, ঢাকায় চিকিৎসাধীন ঢাকা চকবাজারের ব্যবসায়ী, প্রতিবাদী কণ্ঠ-এর সম্মানিত অনুদানদাতা ও আজীবন সদস্য সুমনের পিতার ইন্তেকাল

লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফ মাস্টার ঘাট বিলুপ্তির পথে

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫ ১৩০ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র “আলতাফ মাস্টার ঘাট” এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় যেটি স্থানীয় মানুষের মিলনস্থল ও নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে সেটি অবহেলা, অনাদর ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে।

জেলার রামগতি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত নদীঘাট হিসেবে আলতাফ মাস্টার ঘাট ছিল পরিচিত। এই ঘাট ঘিরে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতি, ছোট ছোট ব্যবসা, নৌকা চলাচল এবং সামাজিক মিলনমেলা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করতেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে নদী ভাঙন, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় ঘাটটি ধীরে ধীরে তার জৌলুস হারিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই ঘাটে সন্ধ্যাবেলায় নৌকায় করে ঘুরতে আসতেন পরিবার-পরিজনসহ বহু মানুষ। আশেপাশের এলাকা থেকে পর্যটকরাও ভিড় জমাতেন। অনেকের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ঘাটের সাথে। অথচ আজ সেই স্থানটি ভাঙাচোরা, পরিত্যক্ত এবং প্রায় চলাচল অযোগ্য।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ঘাটের বেশিরভাগ কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। কোন ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বর্তমানে সেটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘাটটি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হবে, তবে তহবানের অভাবে তা বিলম্বিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলতাফ মাস্টার ঘাট শুধু একটি নৌ-ঘাট নয়, এটি লক্ষ্মীপুরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে এই ঐতিহ্যকে রক্ষার প্রধান চাবিকাঠি।

উপসংহার:
লক্ষ্মীপুরবাসীর আবেগ জড়ানো আলতাফ মাস্টার ঘাট যেন হারিয়ে না যায় ইতিহাসের অতল গহ্বরে—এই প্রত্যাশা সকলের। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এর সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী আলতাফ মাস্টার ঘাট বিলুপ্তির পথে

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ মে ২০২৫

লক্ষ্মীপুর জেলার অন্যতম পুরাতন এবং ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র “আলতাফ মাস্টার ঘাট” এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এক সময় যেটি স্থানীয় মানুষের মিলনস্থল ও নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল, বর্তমানে সেটি অবহেলা, অনাদর ও প্রাকৃতিক ক্ষয়ের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে।

জেলার রামগতি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত নদীঘাট হিসেবে আলতাফ মাস্টার ঘাট ছিল পরিচিত। এই ঘাট ঘিরে গড়ে উঠেছিল স্থানীয় অর্থনীতি, ছোট ছোট ব্যবসা, নৌকা চলাচল এবং সামাজিক মিলনমেলা। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করতেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে নদী ভাঙন, পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় ঘাটটি ধীরে ধীরে তার জৌলুস হারিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এক সময় এই ঘাটে সন্ধ্যাবেলায় নৌকায় করে ঘুরতে আসতেন পরিবার-পরিজনসহ বহু মানুষ। আশেপাশের এলাকা থেকে পর্যটকরাও ভিড় জমাতেন। অনেকের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই ঘাটের সাথে। অথচ আজ সেই স্থানটি ভাঙাচোরা, পরিত্যক্ত এবং প্রায় চলাচল অযোগ্য।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর প্রবল স্রোতের কারণে ঘাটের বেশিরভাগ কাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। কোন ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় বর্তমানে সেটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ঘাটটি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া হবে, তবে তহবানের অভাবে তা বিলম্বিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আলতাফ মাস্টার ঘাট শুধু একটি নৌ-ঘাট নয়, এটি লক্ষ্মীপুরের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সঠিক পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এটি পুনরুজ্জীবিত করা সম্ভব। এক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগই হতে পারে এই ঐতিহ্যকে রক্ষার প্রধান চাবিকাঠি।

উপসংহার:
লক্ষ্মীপুরবাসীর আবেগ জড়ানো আলতাফ মাস্টার ঘাট যেন হারিয়ে না যায় ইতিহাসের অতল গহ্বরে—এই প্রত্যাশা সকলের। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এর সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।