জায়গা জমি সংক্রান্ত বিরোধে সাম্প্রতিক গোলাগুলির ঘটনায় নিজ ভাই-ভাতিজাকে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।
- আপডেট সময় : ০২:০০:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে গোলাগুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের ভাই হাজী আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে তাকে ও তার ছেলেকে মিথ্যাভাবে জড়ানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন চৌমুহনী হকার্স মার্কেট এরাবিয়ান বস্ত্র বিতানের স্বত্তাধিকারী মো. আবুল হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, পূর্বশত্রুতা ও পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে এবং তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে গোলাগুলির ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন আবুল হোসেন। লিখিত বক্তব্যে আবুল হোসেন বলেন, গত ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি হকার্স মার্কেটের পাঁচ তারকা হোটেলের সামনে হেঁটে থাকা দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ইয়াসিন সেন্টু নামে এক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।
আবুল হোসেনের অভিযোগ, ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার বড় ভাই ও হকার্স মার্কেট সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সংবাদ সম্মেলন করে তাকে এবং তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে ওই ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে দাবি করেন। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারিত হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার সামাজিক, মানসিক ও আইনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ২০১৬ সাল থেকে পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে আবুল কাশেম তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র করে আসছেন। তার অভিযোগ, বৈধ সম্পত্তি দখল এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেন আরও দাবি করেন, ২০১৭ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় জিডি নম্বর-১০২৪, তারিখ ১১ নভেম্বর ২০১৭ দায়ের করা হয় বলে তিনি জানান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনে একাধিক মামলা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে আদালতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পেয়েছেন। তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কেও ২০২১ সালে বেগমগঞ্জ থানার মামলা নম্বর-২১, তারিখ ১১ জুলাই ২০২১-এ আসামি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে আদালত তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন বলে দাবি করেন আবুল হোসেন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে সে সময় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
আবুল হোসেনের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি তার মালিকানাধীন দোকান দখলের উদ্দেশ্যে দোকানে তালা দেওয়া হয় এবং তার বাড়ির সামনে ডাস্টবিন ও পিলার স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের উপস্থিতিতে যৌথ বাহিনীর সহায়তায় এসব স্থাপনা অপসারণ এবং দোকানের তালা খোলা হয়।
হকার্স মার্কেট সমিতির অধীনে তার ও পরিবারের নামে থাকা পাঁচটি সদস্য কক্ষ ও ১৪টি ভাড়াটিয়া কক্ষের নিয়মিত চাঁদা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন আবুল হোসেন। পরে সমবায় কর্মকর্তার পরামর্শ অনুযায়ী সমিতির ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত চাঁদা প্রদান করে আসছেন বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে মাদক ও মদ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং সমিতির ১৮ শতাংশ জায়গা অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন আবুল হোসেন। এসব অভিযোগকে তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করে বলেন, তিনি বৈধভাবে ক্রয় ও সরকারি লিজের প্রক্রিয়াধীন জমিতে বসবাস করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবুল হোসেন তার ভাই আবুল কাশেমের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে।
আবুল হোসেন আরও দাবি করেন, বিভিন্ন অনিয়ম ও কথিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তার ভাই তার ওপর ক্ষুব্ধ। সর্বশেষ হকার্স মার্কেটের গোলাগুলির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার ছেলেকে ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা সেই বিরোধেরই ধারাবাহিকতা বলে তিনি মনে করেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এবং আমার ছেলে উক্ত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৭ আগস্টের গোলাগুলির ঘটনায় তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য এবং ফৌজদারি মামলায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে তার বা তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানি, মিথ্যা মামলা কিংবা কোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি


















