সর্বশেষ
নালিতাবাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধরা,পলাতক মুদি দোকানদার আজিম মিঞার প্রতিবাদমূলক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য, আলোচনায় পারি ফাউন্ডেশনের ফিরোজ আহমেদ পলাশ জামায়েতে ইসলামি যুব বিভাগ নালিতাবাড়ী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত ব্রাক্ষ্মণ পাড়া থানার ভয়ঙ্কর মাদক স্পটের নেতৃত্বে চৌকিদার শাহীন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা ১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে গাছের চারা বিতরণ সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ ঘিরে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

ক্রাইম রিপোর্টার, খুলনা:
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

খুলনার দৌলতপুর এলাকায় “স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন এলাকায় কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে অর্থ গ্রহণ করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, খালিশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কর্মীর মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় অফিসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে অর্থ বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমবায় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া ‘সমবায়’ শব্দ ব্যবহার আইনগত অপরাধ হতে পারে। এছাড়া প্রতারণা, ভুয়া তথ্য প্রদান বা অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা মো. আব্দুর রহিম শিকদার পূর্বে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.-এ কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি আক্তার জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের সুনামের স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে মো. আব্দুর রহিম শিকদার বলেন, তিনি পূর্বের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে নতুন কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, “সব কাগজপত্র এখনো সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে পারব।”
তার এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার আগেই কীভাবে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অনুমোদন, আর্থিক কার্যক্রম ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বৈধতা তদন্ত করে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নতুন লাইসেন্স বা অনুমোদন প্রদান থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ ঝুঁকির মুখে না পড়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দৌলতপুরে ‘স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.’ ঘিরে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

খুলনার দৌলতপুর এলাকায় “স্বপ্নধারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.” নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ লেনদেনকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন এলাকায় কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ করে অর্থ গ্রহণ করছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন ও আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দিঘলিয়া, আড়ংঘাটা, খালিশপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন কর্মীর মাধ্যমে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ জমা নেওয়ার কার্যক্রম চলছে। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় অফিসের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম বলেন, “সমবায় আইন অনুযায়ী নিবন্ধন ও অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ‘সমবায়’ নাম ব্যবহার করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষকে অর্থ বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র যাচাই করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
সমবায় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমবায় সমিতি আইন, ২০০১ অনুযায়ী নিবন্ধন ছাড়া ‘সমবায়’ শব্দ ব্যবহার আইনগত অপরাধ হতে পারে। এছাড়া প্রতারণা, ভুয়া তথ্য প্রদান বা অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা মো. আব্দুর রহিম শিকদার পূর্বে বন্ধুজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি.-এ কর্মরত ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি আক্তার জানান, তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানের সুনামের স্বার্থে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি।
অন্যদিকে বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। যদিও এ অভিযোগের স্বপক্ষে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।
যোগাযোগ করা হলে মো. আব্দুর রহিম শিকদার বলেন, তিনি পূর্বের প্রতিষ্ঠান ছেড়ে নতুন কার্যক্রম শুরু করেছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, “সব কাগজপত্র এখনো সম্পন্ন হয়নি। আশা করছি আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ করতে পারব।”
তার এই বক্তব্যের পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও অনুমোদন সম্পন্ন হওয়ার আগেই কীভাবে সদস্য সংগ্রহ ও অর্থ গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে? বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসন যেন দ্রুত প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন, অনুমোদন, আর্থিক কার্যক্রম ও সদস্যদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বৈধতা তদন্ত করে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের নতুন লাইসেন্স বা অনুমোদন প্রদান থেকে বিরত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ ঝুঁকির মুখে না পড়ে।