সর্বশেষ
জানাজার মাঠ রক্ষায় মেয়রের হস্তক্ষেপ দাবি, উত্তর হালিশহরে দখল আতঙ্ক ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে মতিঝিল থানা শ্রমিক দলকে জনতার কাউন্সিলর আনুর টেলিভিশন উপহার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম গণের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত রামগতিতে ব্যবসায়ীকে হুমকি দিয়ে দোকানে আগুন, ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ অনুষ্ঠিত সভায় পুরস্কার বিতরণ সাপাহারে সীমান্তবর্তী এলাকায় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে মতবিনিময় সভা বেগমগঞ্জে চেকপোস্টে ৩ পিস্তল, গুলি ও ম্যাগাজিনসহ যুবক আটক। ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলামের উপর হামলা গাইবান্ধায় ছাত্রলীগ নেতা অমিত গ্রেপ্তার: রাতে বাংলাবাজারে অভিযান নোয়াখালীতে ইসলামী ব্যাংক এজেন্টের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ,

মানবাধিকারের মুখোশে প্রতারণা? ঝিনাইদহে জনতার হাতে আটক কথিত চেয়ারম্যান

রিপোর্ট: সারজিদ আহমেদ অপু
  • আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার রক্ষার নামে যদি গড়ে ওঠে প্রতারণার জাল, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
ঝিনাইদহে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন কাজী মাহমুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি, একাধিক পরিচয়পত্র এবং একটি প্রাইভেটকার।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা” এবং Centre For Enforcement of Human Rights and Legal Aid (CEHRLA)-এর চেয়ারম্যান পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা জেলায় প্রভাব বিস্তার, সদস্য কার্ড বিক্রি এবং ভুয়া কমিটি গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের মতো পোশাক, ওয়াকিটকি ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতো। অভিযোগ উঠেছে, “এন্টি করাপশন টিম (ACT)”, “ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম (CIT)” এবং “ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম (ERT)” নাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রশাসনের অংশ হিসেবেও পরিচয় দিত এই চক্র।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আরও ভয়াবহ।
তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে CEHRLA-এর নাম, সরকারি নিবন্ধন নম্বর, লোগো, ব্যানার ও পরিচয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কাজী মাহমুদুল হাসান, মোঃ মইনুর রশীদ এবং মোঃ সোলয়মান হাওলাদারের নাম।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের অমিত তালুকদার ও মাহমুদুল হাসান, ঝিনাইদহের মোঃ জুসেল এবং কক্সবাজারের মাহবুবুল আলম সবুজ। তাদের কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, আবার কেউ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানা গেছে।
তাদের ভাষ্য, অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কাজী মাহমুদুল হাসানের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও।
এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে জাতিসংঘের “ক্রাইম শাখার সদস্য” বলে দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অনুসন্ধানে তার পাসপোর্ট থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
আরেক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাদের সংগঠনটি ২০০২ সালের ২৬ মার্চ সাত সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংগঠনটির নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে এসব বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে যদি প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়পত্র বিতরণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর অনুকরণ করা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়— রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
এখন প্রশ্ন একটাই—
মানবাধিকারের নামে যারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?
সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো ঝিনাইদহসহ সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মানবাধিকারের মুখোশে প্রতারণা? ঝিনাইদহে জনতার হাতে আটক কথিত চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

মানবাধিকার রক্ষার নামে যদি গড়ে ওঠে প্রতারণার জাল, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
ঝিনাইদহে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়েছেন কাজী মাহমুদুল হাসান নামের এক ব্যক্তি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ঝিনাইদহ সদর এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রমের অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি লাইসেন্সবিহীন ওয়াকিটকি, একাধিক পরিচয়পত্র এবং একটি প্রাইভেটকার।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি “আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা” এবং Centre For Enforcement of Human Rights and Legal Aid (CEHRLA)-এর চেয়ারম্যান পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে নানা জেলায় প্রভাব বিস্তার, সদস্য কার্ড বিক্রি এবং ভুয়া কমিটি গঠনের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের মতো পোশাক, ওয়াকিটকি ও পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হতো। অভিযোগ উঠেছে, “এন্টি করাপশন টিম (ACT)”, “ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম (CIT)” এবং “ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম (ERT)” নাম ব্যবহার করে নিজেদের প্রশাসনের অংশ হিসেবেও পরিচয় দিত এই চক্র।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
এদিকে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ আরও ভয়াবহ।
তাদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে CEHRLA-এর নাম, সরকারি নিবন্ধন নম্বর, লোগো, ব্যানার ও পরিচয়পত্র জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অভিযোগে উঠে এসেছে কাজী মাহমুদুল হাসান, মোঃ মইনুর রশীদ এবং মোঃ সোলয়মান হাওলাদারের নাম।
অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের অমিত তালুকদার ও মাহমুদুল হাসান, ঝিনাইদহের মোঃ জুসেল এবং কক্সবাজারের মাহবুবুল আলম সবুজ। তাদের কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, আবার কেউ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানা গেছে।
তাদের ভাষ্য, অভিযোগ দেওয়ার পরও কার্যকর প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে কাজী মাহমুদুল হাসানের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়েও।
এক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে জাতিসংঘের “ক্রাইম শাখার সদস্য” বলে দাবি করেছিলেন। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, অনুসন্ধানে তার পাসপোর্ট থাকার তথ্যও পাওয়া যায়নি।
আরেক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাদের সংগঠনটি ২০০২ সালের ২৬ মার্চ সাত সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজারের বেশি। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সংগঠনটির নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে এসব বক্তব্যের মিল পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, মানবাধিকারের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে যদি প্রতারণা, ভুয়া পরিচয়পত্র বিতরণ এবং প্রশাসনিক কাঠামোর অনুকরণ করা হয়ে থাকে, তবে তা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়— রাষ্ট্রীয় ভাবমূর্তির জন্যও হুমকিস্বরূপ।
এখন প্রশ্ন একটাই—
মানবাধিকারের নামে যারা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নিয়ে খেলছে, তাদের বিরুদ্ধে কত দ্রুত এবং কতটা কঠোর ব্যবস্থা নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী?
সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো ঝিনাইদহসহ সচেতন মহল।