আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেছে বাড়লা বিল: ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত, দিশেহারা কৃষক
- আপডেট সময় : ১১:২২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র ঈদুল আজহার দোড়গোড়ায় দাঁড়িয়ে যখন ঘরে ঘরে আনন্দের প্রস্তুতি, ঠিক তখনই এক বুক বিষাদ আর হাহাকার নেমে এসেছে নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বাড়লা বিল পাড়ের কৃষকদের জীবনে। আকস্মিক বন্যা ও জলাবদ্ধতায় বাড়লা মৌজার বাড়লা বিলে প্রায় ১০ হেক্টর ফসলি জমি সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চোখের সামনে নিজেদের হাড়ভাঙা খাঁটুনির সোনালী স্বপ্ন পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন এলাকার সাধারণ কৃষকেরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়লা বিলের ফসলের ওপর অত্র এলাকার বিপুল সংখ্যক কৃষকের জীবন-জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে আকস্মিকভাবে পানি চলে আসায় বিঘার পর বিঘা জমির উঠতি ফসল চোখের পলকে তলিয়ে যায়। এখন বুকসমান পানিতে নেমে ডুবন্ত ফসল ও ধান সংগ্রহের শেষ চেষ্টা চালাচ্ছেন উক্ত গ্রামের নিরুপায় কৃষকেরা। শেষ সম্বলটুকু বাঁচানোর এই ব্যাকুলতা যেন এক করুণ দৃশ্যের অবতারণা করেছে বাড়লা বিলের পাড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ক্ষোভ ও আর্দ্র গলায় জানান, পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে তাদের চোখে-মুখে অনেক স্বপ্ন ছিল। পরিবারের নতুন পোশাক, ঈদের আনন্দ—সবই জড়িয়ে ছিল এই ফসলের হাসির ওপর। কিন্তু মুহূর্তের দুর্যোগে ফসল ডুবে যাওয়ায় তারা এখন পরিবার-পরিজন নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে চলবেন, তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি অফিস ও ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি জরুরি তালিকা তৈরি করে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী কৃষকদের জোরালো দাবি—এই সরকারি সহায়তা ঈদের আনন্দ পুরোপুরি ম্লান হওয়ার আগেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেন এই আর্থিক অনুদান সরাসরি প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছানো হয়। সরকারি মানবিক সহায়তাই এখন বাড়লা বিল পাড়ের শত শত বিপন্ন কৃষক পরিবারের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।




















