স্বামীর নির্যাতনে রক্তাক্ত কণ্ঠশিল্পী শায়রিন — নীরব থাকবে আর কত সমাজ?
- আপডেট সময় : ১১:৩৮:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর রামপুরা বউবাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কণ্ঠশিল্পী শায়রিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রক্তাক্ত মুখে লাইভে এসে নিজের ওপর চালানো পাশবিক নির্যাতনের বর্ণনা দেন তিনি। তার সেই হৃদয়বিদারক ভিডিও মুহূর্তেই মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় তোলে।
ভিডিওতে শায়রিন অভিযোগ করেন, তার স্বামী তাকে মারধর করে দেয়ালের সাথে মাথা আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত করেন। এরপর বাসার বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে চলে যান। রক্তমাখা মুখে অসহায়ের মতো তিনি বলেন— দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সব নির্যাতন সহ্য করে সংসার করে এসেছেন। কিন্তু দিনের পর দিন চলতে থাকা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন আজ চরম ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। দেশে ফিরে সংসার জীবনে নানা বিষয় নিয়ে প্রায়ই তাকে নির্যাতন করতেন। কখনো মানসিকভাবে, কখনো শারীরিকভাবে। কিন্তু সমাজ, সন্তান ও সংসারের কথা ভেবে এতদিন মুখ বন্ধ রেখেছিলেন এই শিল্পী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবাদী প্রশ্ন
একজন নারী কতটা নির্যাতিত হলে রক্তাক্ত অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসে বিচার চাইতে বাধ্য হন?
কোথায় আমাদের মানবতা?
কোথায় নারী নিরাপত্তা?
সংসারের নামে নারীর ওপর এমন বর্বরতা আর কতদিন চলবে?
একজন কণ্ঠশিল্পী, একজন মা, একজন নারী— কেউই স্বামীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন। পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে নারীর ওপর সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে সচেতন মহল।
প্রতিবাদী কণ্ঠের আহ্বান —
নারীর কান্না যেন আর চার দেয়ালের ভেতরে চাপা না পড়ে। নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলুন, প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। কারণ নীরবতা কখনো অত্যাচার থামাতে পারে না।
























