সর্বশেষ
নালিতাবাড়ীতে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে গিয়ে এলাকাবাসীর কাছে ধরা,পলাতক মুদি দোকানদার আজিম মিঞার প্রতিবাদমূলক পোস্টে বিতর্কিত মন্তব্য, আলোচনায় পারি ফাউন্ডেশনের ফিরোজ আহমেদ পলাশ জামায়েতে ইসলামি যুব বিভাগ নালিতাবাড়ী শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য যুব র‍্যালি অনুষ্ঠিত ব্রাক্ষ্মণ পাড়া থানার ভয়ঙ্কর মাদক স্পটের নেতৃত্বে চৌকিদার শাহীন শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে অতিরিক্ত লবণ, চিনি ও ট্রান্স ফ্যাটের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি এসএসসি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা ১০ বছরের শিশু অপহরণের পরের দিনই উদ্ধার প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাপাহারে গাছের চারা বিতরণ সাপাহারে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ভোলার চরফ্যাশনে অভিযোগ প্রমাণের আগেই বৃদ্ধকে জুতা-ঝাড়ুর মালা

​নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা | ​
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে এক মাদরাসা শিক্ষককে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অমানবিক হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। একটি বিতর্কিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আগে তাকে জনসম্মুখে জুতা ও ঝাড়ুর মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হেনস্তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে দুপুরে বাতেনখালী এলাকার হাজী শের আলী হাওলাদার বাড়ী নূরানী ও হাফেজিয়া মাদরাসার অফিস কক্ষে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে মাদরাসা শিক্ষক মো: আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫০)-এর বিরুদ্ধে। ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে জানানো হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলা এলাকার সাধারণ মানুষ মাদরাসার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে উত্তেজিত জনতা তার গলায় একাধিক পুরনো জুতার মালা এবং ঝাড়ুর মালা পরিয়ে দেয়। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি চরম মানহানিকর অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অপরাধের বিচার করবে আদালত। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে (হুজুর) এভাবে জুতা ও ঝাড়ুর মালা পরিয়ে অসম্মান করা মূলত আইনের শাসনের পরিপন্থী। এটি ‘মব জাস্টিস’ বা মগের মুল্লুকের নামান্তর। চরফ্যাশন থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা মো: মনির বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে পুলিশের হাতে দেওয়ার আগে যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে বৃদ্ধকে এভাবে হেনস্তা ও অপমান করেছে, তাদের বিষয়েও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান। ​ মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় কাউকে জুতার মালা পরানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। যারা এই অপমানজনক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যেন কেউ ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপহাস করার সাহস না পায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ভোলার চরফ্যাশনে অভিযোগ প্রমাণের আগেই বৃদ্ধকে জুতা-ঝাড়ুর মালা

আপডেট সময় : ১২:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর মাদ্রাজ ইউনিয়নে এক মাদরাসা শিক্ষককে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অমানবিক হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। একটি বিতর্কিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার আগে তাকে জনসম্মুখে জুতা ও ঝাড়ুর মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই হেনস্তার ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মে দুপুরে বাতেনখালী এলাকার হাজী শের আলী হাওলাদার বাড়ী নূরানী ও হাফেজিয়া মাদরাসার অফিস কক্ষে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রকে যৌন হেনস্তার অভিযোগ ওঠে মাদরাসা শিক্ষক মো: আব্দুল্লাহ আল নোমান (৫০)-এর বিরুদ্ধে। ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ তুলে স্থানীয় সাধারণ মানুষকে জানানো হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতের বেলা এলাকার সাধারণ মানুষ মাদরাসার সামনে জড়ো হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন । প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার আগে উত্তেজিত জনতা তার গলায় একাধিক পুরনো জুতার মালা এবং ঝাড়ুর মালা পরিয়ে দেয়। তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি চরম মানহানিকর অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে চরফ্যাশন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। অপরাধের বিচার করবে আদালত। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে (হুজুর) এভাবে জুতা ও ঝাড়ুর মালা পরিয়ে অসম্মান করা মূলত আইনের শাসনের পরিপন্থী। এটি ‘মব জাস্টিস’ বা মগের মুল্লুকের নামান্তর। চরফ্যাশন থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী ছাত্রের পিতা মো: মনির বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তবে পুলিশের হাতে দেওয়ার আগে যারা আইন হাতে তুলে নিয়ে বৃদ্ধকে এভাবে হেনস্তা ও অপমান করেছে, তাদের বিষয়েও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পুলিশ জানায়, অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলমান। ​ মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, অপরাধী যেই হোক, আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় কাউকে জুতার মালা পরানো মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। যারা এই অপমানজনক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন যেন কেউ ভবিষ্যতে বিচারিক প্রক্রিয়াকে উপহাস করার সাহস না পায়।