“প্রচলিত শিক্ষার বাইরে নতুন দিগন্ত: হালিশহরে সমন্বিত প্রজন্ম গঠনের মডেল” মাঠে খেলা,
- আপডেট সময় : ০৪:৫২:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ হালিশহরে একদিনের একটি আয়োজন—কিন্তু তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনের বড় এক বার্তা। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার প্রচলিত কাঠামোকে ছাপিয়ে এই আয়োজন হয়ে উঠেছে শিক্ষার বিকল্প ধারা, যেখানে পাঠ্যবইয়ের গণ্ডি পেরিয়ে একজন শিক্ষার্থীকে পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার বাস্তব প্রয়াস স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। নগরীর ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকমল আলী রোডস্থ ‘বিএইচ নলেজ ফেয়ার স্কুল এন্ড কলেজ’-এর উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টিজিএস টার্ফ মাঠে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী কর্মসূচিতে ছিল বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন এবং এক তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা সভা। সকালের সূচনায় জাতীয় পতাকা, প্রতিষ্ঠানিক পতাকা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে যে পরিবেশ তৈরি হয়, তা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং তা শিক্ষার্থীদের মাঝে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও দেশাত্মবোধ জাগ্রত করার এক প্রতীকী বার্তা বহন করে। এরপর মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশনা ও সৃজনশীল উপস্থাপনায় তারা তুলে ধরে দলগত চেতনা ও নান্দনিকতার এক অনন্য মেলবন্ধন। ক্রীড়া পর্বে ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা শুধু প্রতিযোগিতাই করেনি, বরং শিখেছে নেতৃত্ব, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ জীবনদক্ষতা। সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতাগুলোও ছিল সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কবিতা আবৃত্তি, ছড়া পাঠ, গজল, হামদ-নাত এবং কোরআন তেলাওয়াতের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে ভূমিকা রাখে। একইসঙ্গে মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। বিকেলের আলোচনা সভাটি ছিল এই আয়োজনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যেখানে শিক্ষার বর্তমান ধারা ও ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে উঠে আসে গুরুত্বপূর্ণ মতামত। প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন স্কুল এন্ড কলেজ ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী তার বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষাকে গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবমুখী, নৈতিক ও কর্মমুখী ধারায় পরিচালিত করতে হবে। সহশিক্ষা কার্যক্রম একটি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশে অপরিহার্য।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে আনন্দভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রধান বক্তা হিসেবে মোঃ হাবিব রহমত উল্লাহ এবং উপস্থিত অন্যান্য অতিথিরাও একই সুরে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার, সহশিক্ষা কার্যক্রমের বিস্তার এবং মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সহকারী পুলিশ সুপার (র্যাব-১৫) এম এ ফারুখ, শিশু বিশেষজ্ঞ ডাঃ সামসুদ্দোহা, শিক্ষা সংগঠক এ এস এম রফিক উদ্দিনসহ অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও গুরুত্ববহ করে তোলে। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে তাদের সাফল্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সন্ধ্যার সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আয়োজনকে দেয় পূর্ণতা। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন কেবল বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়; বরং এটি একটি সমন্বিত শিক্ষাদর্শের প্রতিফলন, যেখানে শিক্ষার্থীদের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ একসঙ্গে গুরুত্ব পায়। শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সুষম সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘বিএইচ নলেজ ফেয়ার স্কুল এন্ড কলেজ’ দক্ষিণ হালিশহরের শিক্ষাঙ্গনে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।






















