সর্বশেষ
লুট হওয়া পিস্তল থেকে ইয়াবা—ডিবির অভিযানে উন্মোচিত অপরাধচক্রের নেটওয়ার্ক
প্রতিনিধির নাম
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে
বিশেষ প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে অপরাধ দমনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জোরালো ও সমন্বিত অভিযানে লুট হওয়া একটি সরকারি বিদেশি পিস্তল উদ্ধারসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। পৃথক তিনটি অভিযানে একাধিক আসামী গ্রেফতারের ঘটনায় নগরীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নগর পুলিশের কমিশনারের দিকনির্দেশনায় চলমান বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৪ এপ্রিল গভীর রাতে খুলশী থানার মতিঝর্না এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পশ্চিম বিভাগের একটি চৌকস দল। অভিযানে মিনহাজ উদ্দিন রাহিম (২১) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিনহাজ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক আসামী আমীর হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ডবলমুরিং থানায় প্রবেশ করে একটি সরকারি বিদেশি পিস্তল লুট করা হয়। পরবর্তীতে অস্ত্রটি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে ব্যবহৃত হয়। একপর্যায়ে মিনহাজ ওই অস্ত্রটি ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে আমীর হোসেনের কাছে বিক্রি করে দেয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খুলশীর লালখান বাজার এলাকার তুলাপুকুর পাড়ে আমীর হোসেনের ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায় সে। পরে ঘরের ভেতর তল্লাশি চালিয়ে টিনের চালের নিচে লুকানো একটি ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি সচল ৯ এমএম বিদেশি পিস্তল, যা মিনহাজ শনাক্ত করে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র হিসেবে। পুলিশ জানায়, পলাতক আমীর হোসেনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় হত্যা মামলাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এদিকে, পৃথক আরেক অভিযানে গত ১৩ এপ্রিল রাতে পাহাড়তলী থানার মাইট্ট্যাল্লাপাড়া এলাকায় মোঃ মাঈনুদ্দীন (২৩) নামে এক মাদককারবারীকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৩২০ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ ১ হাজার ৫৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে, বন্দর বিভাগের অভিযানে আকবরশাহ এলাকায় মোঃ মহসিন (২৪) ও মোঃ জহির (৪২) নামে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া চান্দগাঁও এলাকায় পৃথক অভিযানে ইমাম হোসেন ওরফে ফাহিম (২৬) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৪৫ পুরিয়া গাঁজা ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, আটককৃতরা সংঘবদ্ধভাবে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। তাদের কার্যক্রম তরুণ সমাজকে মারাত্মকভাবে বিপথগামী করছিল, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নগরীতে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার নির্মূলে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না—এমন কঠোর বার্তা দিয়ে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তারা। একাধিক সফল অভিযানের ফলে অপরাধচক্র চাপে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাবোধও বেড়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, এ ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রাম মহানগরী ধীরে ধীরে একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত নগরীতে রূপ নেবে।






















