সর্বশেষ
শিবচর বাজারে গ্যাসের কৃত্রিম সংকট রোধে প্রশাসনের অভিযান। ৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%! জেএফ-১৭ থান্ডার ক্রয়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান আলোচনায় গতি, মিলছে প্রশিক্ষণ–সহায়তার আশ্বাস যুবলীগ নেতা বাপ্পির নির্দেশেই হাদি হত্যাকাণ্ড, অভিযোগপত্রে ডিবির চাঞ্চল্যকর তথ্য শেরপুরে বিএনপিতে যোগ দিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩০০ নেতাকর্মী ফ্লাশ করলেই মিলবে কিডনি রোগের সংকেত: টয়লেট ট্যাবলেটে যুগান্তকারী উদ্ভাবন কারসাজিতে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে: জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এনইআইআর ইস্যুতে রাজপথে উত্তাল মোবাইল ব্যবসায়ীরাপুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর বৈঠকে যে কড়া বার্তা দিলেন আন্দোলনকারীরা সেন্টমার্টিন উপকূলে কোস্টগার্ডের অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের সময় সিমেন্ট ও ডিজেলসহ ১৮ জন আটক কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি প্রার্থীকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি

বড়পুকুরিয়ায় ডেটোনেটর বিস্ফোরণ: খেলার ছলে উড়ে গেল শিশুর হাত, কয়লাখনির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫ ৪০ বার পড়া হয়েছে


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাশে ডাম্পিং এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ডেটোনেটর (এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে এক শিশু। বিস্ফোরণে ১০ বছর বয়সী ইলিয়াস আলীর ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কয়লাখনির পাশে চৌহাটি গ্রামে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বুধবার (৯ জুলাই) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত শিশু ইলিয়াস চৌহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র। বর্তমানে সে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস খেলার ছলে কয়লাখনির ডাম্পিং এলাকা থেকে একটি ধাতব বস্তু কুড়িয়ে পায়, যা সে মোবাইলের নষ্ট ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ দিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করে। সেই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার ডান হাতের কবজি ছিঁড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়লাখনির ডাম্পিং এলাকা তারকাঁটায় ঘেরা ও জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও এলাকার মানুষ কয়লা খোঁজার আশায় প্রায়শই সেখানে ঢুকে পড়ে। এসব বর্জ্যের মধ্যেই অনেক সময় ব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত বিস্ফোরক ডিভাইস মেলে। এই অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশই অনেক সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক বলেন, “এটি ছিল ডেটোনেটর, যা ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হয়। এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেখে বোঝা যায় না কোনটি অকেজো, আর কোনটি সক্রিয়। শিশুটি অনিচ্ছাকৃতভাবে সেটি নিয়ে খেলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন খনি কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কয়লাখনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডাম্পিং এলাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এলাকাটি আরও সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বড়পুকুরিয়ায় ডেটোনেটর বিস্ফোরণ: খেলার ছলে উড়ে গেল শিশুর হাত, কয়লাখনির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

আপডেট সময় : ০৭:২১:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫


দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পাশে ডাম্পিং এলাকায় পরিত্যক্ত একটি ডেটোনেটর (এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বিস্ফোরণে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে এক শিশু। বিস্ফোরণে ১০ বছর বয়সী ইলিয়াস আলীর ডান হাতের কবজি সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার (৮ জুলাই) কয়লাখনির পাশে চৌহাটি গ্রামে।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক বুধবার (৯ জুলাই) বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

আহত শিশু ইলিয়াস চৌহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি মাদরাসার ছাত্র। বর্তমানে সে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস খেলার ছলে কয়লাখনির ডাম্পিং এলাকা থেকে একটি ধাতব বস্তু কুড়িয়ে পায়, যা সে মোবাইলের নষ্ট ব্যাটারির সঙ্গে সংযোগ দিয়ে পরীক্ষা করার চেষ্টা করে। সেই সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তার ডান হাতের কবজি ছিঁড়ে যায়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কয়লাখনির ডাম্পিং এলাকা তারকাঁটায় ঘেরা ও জনসাধারণের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও এলাকার মানুষ কয়লা খোঁজার আশায় প্রায়শই সেখানে ঢুকে পড়ে। এসব বর্জ্যের মধ্যেই অনেক সময় ব্যবহৃত বা পরিত্যক্ত বিস্ফোরক ডিভাইস মেলে। এই অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশই অনেক সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক বলেন, “এটি ছিল ডেটোনেটর, যা ভূগর্ভস্থ কয়লা উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হয়। এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল। দেখে বোঝা যায় না কোনটি অকেজো, আর কোনটি সক্রিয়। শিশুটি অনিচ্ছাকৃতভাবে সেটি নিয়ে খেলার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।”

তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্তে ইতোমধ্যে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আহত শিশুটির চিকিৎসা ও পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন খনি কর্তৃপক্ষ।

এ ঘটনায় কয়লাখনির নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডাম্পিং এলাকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা দ্রুত এলাকাটি আরও সুরক্ষিত করার দাবি জানিয়েছেন।