সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী টুন্ডা বাবু কারাগারে, রোববার রিমান্ড চায় পুলিশ

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ৯৬ বার পড়া হয়েছে


রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর অন্যতম সদস্য মো. বাবু খান ওরফে টুন্ডা বাবুকে (৩১) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাব-২-এর অভিযানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া বলেন, “বাবু খানের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে। আমরা আগামী রোববার দুটি মামলায় তাঁর রিমান্ড আবেদন করব।”

সন্ত্রাস-ছিনতাইয়ে সক্রিয় ‘কবজিকাটা’ বাহিনীর অন্যতম সদস্য

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, বাবু খান মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার নামে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ও তাঁর গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, দিনের বেলায় তাঁরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কম জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন, ব্যাগ, ল্যাপটপসহ মূল্যবান জিনিস ছিনতাই করতেন। রাতে বাসা বা ফ্ল্যাটে ঢুকে এবং চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতি করতেন।

আবারও সন্ত্রাসে ফিরেছিলেন জামিনে বের হয়ে

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামলীর ২ নম্বর প্রজেক্ট এলাকায় বাবু খানকে ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা যায়। কিশোর গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার জেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি র‍্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ৫ মে জামিনে মুক্তি পান। তবে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় আগের মতোই অপরাধে লিপ্ত হন বলে র‍্যাবের ভাষ্য।

অভিযানে একাধিক গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার

সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২-এর বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত একাধিক গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, কবজিকাটা গ্রুপের প্রধান মো. আনোয়ার ওরফে শুটার আনোয়ার, চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিম, এবং ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে রয়েছে মোহাম্মদপুর এলাকার সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলো এবং তাদের পেছনে থাকা পেশাদার অপরাধীরা। এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গোটা চক্রকে চিহ্নিত করে একে একে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর শীর্ষ সন্ত্রাসীর সহযোগী টুন্ডা বাবু কারাগারে, রোববার রিমান্ড চায় পুলিশ

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫


রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাস সৃষ্টি করা আলোচিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘কবজিকাটা গ্রুপ’-এর অন্যতম সদস্য মো. বাবু খান ওরফে টুন্ডা বাবুকে (৩১) গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাব-২-এর অভিযানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে আদাবর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আজ শুক্রবার (৪ জুলাই) তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া বলেন, “বাবু খানের বিরুদ্ধে আদাবর থানায় মারামারি, হত্যাচেষ্টা, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরিসহ মোট নয়টি মামলা রয়েছে। আমরা আগামী রোববার দুটি মামলায় তাঁর রিমান্ড আবেদন করব।”

সন্ত্রাস-ছিনতাইয়ে সক্রিয় ‘কবজিকাটা’ বাহিনীর অন্যতম সদস্য

র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, বাবু খান মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কবজিকাটা’ আনোয়ার নামে পরিচিত শীর্ষ সন্ত্রাসীর প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ও তাঁর গ্যাং সদস্যরা ছিনতাই, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক ব্যবসা ও ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, দিনের বেলায় তাঁরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কম জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন এবং পথচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন, ব্যাগ, ল্যাপটপসহ মূল্যবান জিনিস ছিনতাই করতেন। রাতে বাসা বা ফ্ল্যাটে ঢুকে এবং চলন্ত গাড়ি থামিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ডাকাতি করতেন।

আবারও সন্ত্রাসে ফিরেছিলেন জামিনে বের হয়ে

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শ্যামলীর ২ নম্বর প্রজেক্ট এলাকায় বাবু খানকে ধারালো অস্ত্র হাতে দেখা যায়। কিশোর গ্যাং সদস্যদের সঙ্গে তাঁর উপস্থিতির একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ঘটনার জেরে ২৪ ফেব্রুয়ারি র‍্যাব তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর ৫ মে জামিনে মুক্তি পান। তবে জামিনে বেরিয়ে তিনি পুনরায় আগের মতোই অপরাধে লিপ্ত হন বলে র‍্যাবের ভাষ্য।

অভিযানে একাধিক গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার

সম্প্রতি মোহাম্মদপুরে র‍্যাব-২-এর বিশেষ অভিযানে মাদক ও সন্ত্রাসে জড়িত একাধিক গ্যাং নেতা গ্রেপ্তার হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, কবজিকাটা গ্রুপের প্রধান মো. আনোয়ার ওরফে শুটার আনোয়ার, চুয়া সেলিম গ্রুপের প্রধান মো. সেলিম আশরাফী ওরফে চুয়া সেলিম ওরফে চোরা সেলিম, এবং ভূঁইয়া সোহেল ওরফে বুনিয়া সোহেল।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে রয়েছে মোহাম্মদপুর এলাকার সক্রিয় কিশোর গ্যাংগুলো এবং তাদের পেছনে থাকা পেশাদার অপরাধীরা। এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গোটা চক্রকে চিহ্নিত করে একে একে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে।