সর্বশেষ
ভোলার চরফ্যাশনে ধরাছোঁয়ার বাইরে ‘মাদক সম্রাট’ নয়ন: রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্যারেড পরীক্ষা অনুষ্ঠিত নালিতাবাড়ীতে দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপহার বিতরণ নালিতাবাড়ী পৌর জামায়াতের ৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি জিহান নোয়াখালীতে প্রতিবন্ধী যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রহস্য উর্দঘাটন গ্রেপ্তার ৪ ফুলপুরে ভাইটকান্দি সাদিকা ট্রেডার্সের সংবাদ সম্মেলন: এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে অপপ্রচারের প্রতিবাদ। কুষ্টিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গাঁজা ও টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার-১০ জুড়ীতে গর্ভবতী মা ও নবজাতক শিশু কার্যক্রমের উদ্বোধন বড়লেখা সরকারি ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ শেরপুর জেলাজুড়ে নানা আয়োজনে দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ১২২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।