সর্বশেষ
ইসলামবাগ খরমটেক বাইতুল আমান জামে মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করলেন কাউন্সিলর প্রার্থী টিপু সুলতান অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে গাইবান্ধায় শহিদুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে আব্দুস সাত্তারের ইন্তেকাল পহেলা বৈশাখে প্রকাশ্যে রঙ লাগানোর ঘটনায় বিতর্ক, সামাজিক ও ধর্মীয় মহলের উদ্বেগ কারওয়ান বাজারে বয়োজ্যেষ্ঠের মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রশ্ন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ফেক আইডি ও অপপ্রচারের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ ময়মনসিংহ পুলিশ লাইন্স উচ্চ বিদ্যালয়, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও বার্ষিক মিলাদ মাহফিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত” ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নলডাঙ্গাবাসীর পাশে গাইবান্ধা জেলা পরিষদ, আর্থিক সহায়তা বিতরণ তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, সেচ সংকটে বিপাকে কৃষক কবিরাজির ফাঁদে ভয়ংকর প্রতারণা: কিশোরীর কাছ থেকে স্বর্ণ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

প্রতিবাদী কণ্ঠ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫ ৮০ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩ হাজারের বেশি কবর খোঁড়া সেই মনু মিয়া আর নেই

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

বাংলাদেশের মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, সেই মনু মিয়া আজ আর আমাদের মাঝে নেই। জীবনের দীর্ঘ সময় তিনি ব্যয় করেছেন মানুষের শেষ বিদায়ে সহায়তা করতে — বিনিময়ে কিছু না চেয়েই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার এই নিরহংকারী মানুষটি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন কবর খননের কাজে। জানা যায়, তিনি ৩ হাজারেরও বেশি মৃত ব্যক্তির কবর খুঁড়েছেন। অনেক সময় বিনা পারিশ্রমিকে, কখনো বা লোকজনের অনুরোধে, নিঃশব্দে তিনি কাজ করে গেছেন মানুষের জন্য।

ঘোড়ায় চড়ে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কবর খননের কাজ করতেন মনু মিয়া। তাঁর পিঠে কাঁধে থাকত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। মানুষ মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে দাফনের সময়টুকুতে ভরসা দিতেন এই নিঃস্বার্থ মানুষটি।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনি ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী, ধর্মভীরু ও আত্মত্যাগী এক ব্যতিক্রমধর্মী চরিত্র। তাঁকে সবাই এক নামে চিনতেন — একজন প্রকৃত “মানবতার কর্মী” হিসেবে।

একজন যুবক বলেন, “উনার মতো মানুষ এ যুগে খুব কম দেখা যায়। নিজের জন্য কিছু করলেন না, সারা জীবন শুধু মানুষের জন্য করে গেলেন।”

তাঁর মৃত্যুতে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকে জানাচ্ছেন, এমন একজন গরিবের বন্ধু ও মানুষকে ভালোবাসা যিনি কাজে প্রমাণ করেছেন, তিনি চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মনু মিয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্থানীয়ভাবে একটি কবরস্থান বা স্মৃতিস্তম্ভ তৈরির কথাও ভাবা হচ্ছে।

আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস দান করেন — এটাই সবার কামনা।