সর্বশেষ
দুগ্ধ খাতকে শক্তিশালী করছে নারী খামারিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বেনাপোল সাদীপুর সীমান্তে বিএসএফ ১২ থেকে ১৫ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করছে নোয়াখালী পৌরসভার উন্নয়ন কাজে রহস্যজনক ধীরগতি, জনদুর্ভোগ চরমে: জবাবদিহিতা কোথায় বেগমগঞ্জের নরোত্তমপুরে ইমামকে বিদায় সংবর্ধনায় পাগড়ি পরানো নিয়ে বিতর্ক, বাজার থেকে ফেরার পথে তরুণকে পিটিয়ে হত্যা: বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্য সলিমপুরে সন্ত্রাসী নিয়ন্ত্রণ ভাঙার পাশাপাশি র‍্যাব ক্যাম্প ভাঙচুরের নেপথ্য শক্তি খুঁজছে সরকার মধ্যম নরোত্তমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবিতে সরব এলাকাবাসী। নেত্রকোণায় জমিসংক্রান্ত বিরোধে বাড়িতে হামলা মোটরসাইকেল ভাংচুর আহত ৩ পাওনা টাকা নিয়ে সাত বছরের বিরোধ: লাম্বু রহিম ও আজিম মিঞার মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত কানাডা ভিসা প্রতারণা: দেবীদ্বারে জাকির হোসেন চক্রের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অভিযোগ

কবিরাজির ফাঁদে ভয়ংকর প্রতারণা: কিশোরীর কাছ থেকে স্বর্ণ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে

কবিরাজি ও তান্ত্রিকতার নামে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে এক কিশোরীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে মূলহোতাসহ তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা ও শেরপুরে ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪২/২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬)। অভিযোগে বলা হয়, তার অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কন্যা মোছাঃ লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ধারী এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারকরা “সমস্যার সমাধান” ও “বাবা-মায়ের ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার” প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। ধাপে ধাপে কবিরাজির বিভিন্ন খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অভিভাবক বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটি পিবিআই জামালপুর ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়। অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে দুই সহযোগী—মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেখানো মতে নিজ বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি ইমু ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করত। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নামে তারা টাকা হাতিয়ে নিত এবং ভুয়া ধর্মীয় ও তান্ত্রিক উপকরণের তালিকা দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্ত করত।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

কবিরাজির ফাঁদে ভয়ংকর প্রতারণা: কিশোরীর কাছ থেকে স্বর্ণ ও টাকা হাতিয়ে নেওয়া, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৩

আপডেট সময় : ১১:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬

কবিরাজি ও তান্ত্রিকতার নামে ভয়ংকর প্রতারণার মাধ্যমে এক কিশোরীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে মূলহোতাসহ তিন প্রতারককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা ও শেরপুরে ব্যবসায়ী ছাইদুর রহমান গত ১৭ মার্চ শেরপুর সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-৪২/২০২৬, ধারা ৪২০/৪০৬)। অভিযোগে বলা হয়, তার অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত কন্যা মোছাঃ লুবাবা (১৩) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে ‘কবিরাজ’ পরিচয়ধারী এক প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে।
তদন্তে জানা যায়, প্রতারকরা “সমস্যার সমাধান” ও “বাবা-মায়ের ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার” প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। ধাপে ধাপে কবিরাজির বিভিন্ন খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে যায়।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে বিকাশ এজেন্টের মাধ্যমে অভিভাবক বিষয়টি জানতে পারেন এবং পরে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশনায় মামলাটি পিবিআই জামালপুর ইউনিটে হস্তান্তর করা হয়। অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের তত্ত্বাবধানে এবং পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত (পিপিএম)-এর নেতৃত্বে একাধিক টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে দুই সহযোগী—মুছা মিয়া (২৯) ও রফিকুল ইসলাম (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহের মাসকান্দা এলাকা থেকে চক্রের মূলহোতা মনির হোসেন (২১)-কে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে তার দেখানো মতে নিজ বাড়ির পাশের বাগানের মাটি খুঁড়ে প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি ইমু ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করত। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নামে তারা টাকা হাতিয়ে নিত এবং ভুয়া ধর্মীয় ও তান্ত্রিক উপকরণের তালিকা দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিভ্রান্ত করত।
পিবিআই জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির প্রলোভনে প্রতারিত না হওয়ার জন্য সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।