সর্বশেষ
নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন শাহিনের ইন্তেকাল, জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন মোবাইল_কোর্ট পরিচালনা করে ইয়াবা সেবনকারীকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদন্ড আইজিপির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ সালথায় পলাতক মাদক মামলার আসামি গ্রেপ্তার: ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত তারেক অবশেষে পুলিশের জালে এভারকেয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রেস্তোরা সমিতির সভাপতি গাজী ওসমান গনি সাভার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অনিয়মের ‘অভয়ারণ্য’—দুর্নীতি, ঘুষ আর ক্ষমতার দাপটে অতিষ্ঠ সেবাগ্রহীতা গাইবান্ধায় কালোবাজারি তেলের কারবারে জড়িত মাদ্রাসা শিক্ষক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা—এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতে জোরালো যৌথ অভিযান প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সরকারি লিজের জমি দখল, ঘর নির্মাণে বাড়ছে উত্তেজনা পহেলা বৈশাখে প্রীতিভোজে অংশ নিলেন চকবাজার থানার ওয়ার্ড ২৯-এর কাউন্সিলর প্রার্থী জননেতা হাজী টিপু সুলতান

৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%!

মো: আজিম মিঞা
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে


শীতকালীন রোগ হিসেবে পরিচিত নিপাহ ভাইরাস এখন সারা বছরের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৩৫ জেলায় ইতোমধ্যেই এই মরণব্যাধির ছায়া বিস্তার করেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশে ‘অ-মৌসুমি’ নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা বছরের মাঝামাঝি মৌসুমেও প্রাণ কেড়ে নেওয়ার নতুন হুমকি তৈরি করছে।
প্রথম অ-মৌসুমি কেস: ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে নওগাঁর একটি মাত্র ৮ বছরের শিশুর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তদন্তে দেখা যায়—শিশুটি বাদুড়ের আধা-খাওয়া কালোজাম, খেজুর ও আম খেয়েছিল।
আইইডিসিআর নিশ্চিত করে—এটাই দেশের প্রথম অ-মৌসুমি নিপাহ কেস।
এতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন থেকে নিপাহ সংক্রমণ শীতকালীন সময় বা খেজুরের রসের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সারা বছরই বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত ফল বা খাবার থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
২০২৫: আক্রান্ত সবাই মারা গেছে—মৃত্যুহার ১০০%
আইইডিসিআর জানায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় চারজন আক্রান্ত হন এবং চারজনই মারা যান।
যেখানে বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার গড়ে ৭২ শতাংশ—সেখানে বাংলাদেশে মৃত্যুহার ১০০%, যা বিশেষজ্ঞদের মারাত্মক উদ্বেগে ফেলেছে।
সংক্রমণের এলাকা: ৩৫ জেলা রেড অ্যালার্ট
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৫ জেলায় ভাইরাসটির বিস্তার লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
২০২৪ সালেও ৫ জন আক্রান্ত হয়ে সবাই মারা যান।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বাড়ছে: ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মী
প্রবন্ধে জানানো হয়—
প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে একজন রোগী থেকে সরাসরি আরেকজনের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যা করা পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি ভাইরাসটির প্রকৃতিই বদলে যাচ্ছে—আগের চেয়ে বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে।
আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন—
“২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সতর্ক সংকেত। নিপাহ এখন আর মৌসুমি রোগ নয়—এটি সারা বছরের বহুমুখী সংক্রমণের হুমকি।”
নিপাহ জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান—
ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
জনসাধারণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—
✔ কোনো ধরনের আধা-খাওয়া ফল না খেতে
✔ কাঁচা খেজুরের রস পুরোপুরি পরিহার করতে
✔ বাদুড়ের নাগালের খাবার ঢেকে রাখতে
✔ জ্বর–মাথাব্যথা–অচেতন হওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৫ জেলায় নিপাহের মহাবিপদ: ইতিহাসে প্রথম অ-মৌসুমি সংক্রমণ, মৃত্যুহার ১০০%!

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬


শীতকালীন রোগ হিসেবে পরিচিত নিপাহ ভাইরাস এখন সারা বছরের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে অন্তত ৩৫ জেলায় ইতোমধ্যেই এই মরণব্যাধির ছায়া বিস্তার করেছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানায়—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দেশে ‘অ-মৌসুমি’ নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যা বছরের মাঝামাঝি মৌসুমেও প্রাণ কেড়ে নেওয়ার নতুন হুমকি তৈরি করছে।
প্রথম অ-মৌসুমি কেস: ৮ বছরের শিশুর মৃত্যু
বুধবার (৭ জানুয়ারি) আইইডিসিআর মিলনায়তনে ‘নিপাহ ভাইরাসের বিস্তার ও ঝুঁকি’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে নওগাঁর একটি মাত্র ৮ বছরের শিশুর শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তদন্তে দেখা যায়—শিশুটি বাদুড়ের আধা-খাওয়া কালোজাম, খেজুর ও আম খেয়েছিল।
আইইডিসিআর নিশ্চিত করে—এটাই দেশের প্রথম অ-মৌসুমি নিপাহ কেস।
এতে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এখন থেকে নিপাহ সংক্রমণ শীতকালীন সময় বা খেজুরের রসের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সারা বছরই বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত ফল বা খাবার থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।
২০২৫: আক্রান্ত সবাই মারা গেছে—মৃত্যুহার ১০০%
আইইডিসিআর জানায়, ২০২৫ সালে নওগাঁ, ভোলা, রাজবাড়ী ও নীলফামারী জেলায় চারজন আক্রান্ত হন এবং চারজনই মারা যান।
যেখানে বিশ্বব্যাপী নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার গড়ে ৭২ শতাংশ—সেখানে বাংলাদেশে মৃত্যুহার ১০০%, যা বিশেষজ্ঞদের মারাত্মক উদ্বেগে ফেলেছে।
সংক্রমণের এলাকা: ৩৫ জেলা রেড অ্যালার্ট
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের ৩৫ জেলায় ভাইরাসটির বিস্তার লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।
২০২৪ সালেও ৫ জন আক্রান্ত হয়ে সবাই মারা যান।
মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ বাড়ছে: ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যকর্মী
প্রবন্ধে জানানো হয়—
প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে একজন রোগী থেকে সরাসরি আরেকজনের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচর্যা করা পরিবার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সবচেয়ে ঝুঁকিতে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এটি ভাইরাসটির প্রকৃতিই বদলে যাচ্ছে—আগের চেয়ে বেশি সংক্রামক হয়ে উঠছে।
আইইডিসিআরের সতর্কবার্তা
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন—
“২০২৫ সালের অ-মৌসুমি কেস বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ সতর্ক সংকেত। নিপাহ এখন আর মৌসুমি রোগ নয়—এটি সারা বছরের বহুমুখী সংক্রমণের হুমকি।”
নিপাহ জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার জানান—
ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে
হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে
জনসাধারণের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন—
✔ কোনো ধরনের আধা-খাওয়া ফল না খেতে
✔ কাঁচা খেজুরের রস পুরোপুরি পরিহার করতে
✔ বাদুড়ের নাগালের খাবার ঢেকে রাখতে
✔ জ্বর–মাথাব্যথা–অচেতন হওয়া দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে