মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান: বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদসহ কুখ্যাত মিন্টু বাহিনীর প্রধান আটক
- আপডেট সময় : ০২:১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮) আটক হয়েছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র গোপনে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চক্রটি অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’ পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে জড়িত অন্যতম ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এতে মহেশখালীসহ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
এ ঘটনায় বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামত এবং আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফলতার ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি এবং চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
























