ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সিস্টেম লস ও বকেয়ার পাহাড়ে ডুবছে প্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পকেট কাটলেও টনক নড়ছে না ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষে এসে দেখা যাচ্ছে, একদিকে সিস্টেম লসের দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে বিশাল অংকের বকেয়া বিদ্যুৎ বিল আদায়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ উঠেছে, জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত সচল থাকায় প্রতিষ্ঠানের এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৬ সালে এসেও ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিস্টেম লস জাতীয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। যেখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে লস কমিয়ে আনার কথা, সেখানে ভোলার চিত্র উল্টো। বর্তমানে এখানে সিস্টেম লসের হার প্রায় ১২% থেকে ১৩% ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি ত্রুটির চেয়ে কর্মকর্তাদের তদারকির অভাব এবং অবৈধ সংযোগের প্রতি মৌন সমর্থনই এই লসের প্রধান কারণ। সাধারণ গ্রাহকদের ১-২ মাসের বিল বকেয়া থাকলে দ্রুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার তৎপরতা দেখালেও, বড় অংকের বকেয়া গ্রাহকদের ক্ষেত্রে রহস্যজনকভাবে নীরব কর্তৃপক্ষ। সমিতির কয়েক দশ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকলেও তা উদ্ধারে জিএম সহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের কোনো কার্যকর রোডম্যাপ নেই। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালীদের সাথে গোপন যোগসাজশের কারণে এই বিশাল অংকের টাকা উত্তোলনে কর্মকর্তাদের চরম অনীহা রয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহক ও সচেতন মহলের প্রশ্ন—প্রতিষ্ঠানের আয় থাকুক বা না থাকুক, কর্মকর্তাদের মোটা অংকের বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা তো ঠিকই চলছে। মাসের শেষে পকেটে বেতন ঢুকে যাচ্ছে বলেই কি তারা সিস্টেম লস ও বকেয়া আদায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন না? যদি এই বিশাল ক্ষতির জন্য কর্মকর্তাদের বেতন থেকে কর্তন করা হতো, তবে হয়তো পরিস্থিতির পরিবর্তন হতো। প্রতিষ্ঠানের লোকসানের দায়ভার কেন কেবল রাষ্ট্র আর সাধারণ গ্রাহক বহন করবে, সেই প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে জেনারেল ম্যানেজারের ওপর এই ব্যর্থতার দায় সবচেয়ে বেশি বর্তায়। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মনিটরিং করতে ব্যর্থ হওয়া এবং বকেয়া আদায়ে কঠোর না হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন আর্থিক ঝুঁকির মুখে। ২০২৬ সালে এসেও কেন জরাজীর্ণ লাইন সংস্কার আর স্মার্ট মিটারিংয়ের সুফল মিলছে না, তার কোনো সদুত্তর নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। বিদ্যুৎ খাতের এই ‘সিস্টেম লস’ আসলে কর্মকর্তাদের ‘সততা ও দায়িত্ববোধের লস’ হিসেবেই দেখছেন ভোলার মানুষ। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও আরইবি (REB) কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। ভোলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কে একাধিকবার ফোন দেওয়া সত্ত্বেও যিনি ফোনে গুরুত্ব দেননি।



















