সর্বশেষ
ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রেসক্লাব সভাপতি সাইদুর রহমানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল ​যশোরে ১ কোটি ৪১ লক্ষ টাকার স্বর্ণের বারসহ চোরাকারবারি আটক পরিবেশ রক্ষায় রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের বিদায়ে আবেগঘন রাজশাহী কলেজ শহীদদের স্মরণে শিবিরের মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন, সেবা নিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে ইউনাইটেড প্রেসক্লাব চট্টগ্রামের মানববন্ধনে শফিকের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি পাওনা ৬২ হাজার টাকা আদায়ে ভুক্তভোগীর আকুতি, আইনি ব্যবস্থার প্রস্তুতি বীরগঞ্জে সাজাপ্রাপ্ত ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী গ্রেফতার

প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের বিদায়ে আবেগঘন রাজশাহী কলেজ

বিশেষ প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

 

রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহী কলেজে শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কলেজ পরিবারের সদস্যরা তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. গোলাম রাব্বানী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী তবাস্সুমি তানজুম ও মো. সোহরাব সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মো. ইউনুছ আলী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. যুহুর আলী, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর হাসনা আরা বেগম, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আফাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, রাজশাহী কলেজ আজ একজন মহান শিক্ষককে বিদায় জানাচ্ছে। ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কলেজে প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে জুলাই-পরবর্তী সময়ে কলেজ ছাত্রাবাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান ও কর্মপ্রাণ শিক্ষক। কোনো কাজেই তিনি অবহেলা করতেন না; বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানেও তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও কর্মনিষ্ঠার আলো ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মো. ইউনুছ আলী বলেন, প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিন আমার শিক্ষাজীবনের সহপাঠী হলেও তিনি আমার কাছে বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তার কাছ থেকেই আমি অনেক কিছু শিখেছি। তার বিচক্ষণতা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই অনুসরণীয়। তিনি পূর্বে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমি সবসময় নিজের অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। রাজশাহী কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি রাজশাহীর শিক্ষা-ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসংখ্য গুণী মানুষের স্মৃতি ও অবদান জড়িয়ে আছে। তাই এই কলেজ ছেড়ে যাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি রাজশাহী কলেজকে নিয়ে নিজের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে কলেজের প্রতি তার ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগের প্রতিফলন ঘটলে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের বিদায়ে আবেগঘন রাজশাহী কলেজ

আপডেট সময় : ১১:৫১:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

 

রাজশাহী কলেজের ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের বদলিজনিত বিদায় উপলক্ষে এক আবেগঘন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজশাহী কলেজে শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ কলেজ পরিবারের সদস্যরা তাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজশাহী কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. গোলাম রাব্বানী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিভাগের শিক্ষার্থী তবাস্সুমি তানজুম ও মো. সোহরাব সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মো. ইউনুছ আলী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. যুহুর আলী, ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর হাসনা আরা বেগম, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. কামরুজ্জামান, আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর মো. আফাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক এবং ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং বিভাগের সকল বর্ষের শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, রাজশাহী কলেজ আজ একজন মহান শিক্ষককে বিদায় জানাচ্ছে। ২০০৬ সাল থেকে ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কলেজে প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিনের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। বিশেষ করে জুলাই-পরবর্তী সময়ে কলেজ ছাত্রাবাসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন একজন দায়িত্বশীল, নিষ্ঠাবান ও কর্মপ্রাণ শিক্ষক। কোনো কাজেই তিনি অবহেলা করতেন না; বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা সম্পন্ন করতেন। আমি বিশ্বাস করি, তিনি যে প্রতিষ্ঠানে যোগ দেবেন, সেখানেও তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও কর্মনিষ্ঠার আলো ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু মো. ইউনুছ আলী বলেন, প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিন আমার শিক্ষাজীবনের সহপাঠী হলেও তিনি আমার কাছে বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তার কাছ থেকেই আমি অনেক কিছু শিখেছি। তার বিচক্ষণতা, ব্যক্তিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই অনুসরণীয়। তিনি পূর্বে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন, সেখানেও তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে প্রফেসর ড. মো. সিরাজ উদ্দিন বলেন, আমি সবসময় নিজের অবস্থান থেকে শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করেছি। রাজশাহী কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি রাজশাহীর শিক্ষা-ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অসংখ্য গুণী মানুষের স্মৃতি ও অবদান জড়িয়ে আছে। তাই এই কলেজ ছেড়ে যাওয়া আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টের।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে তিনি রাজশাহী কলেজকে নিয়ে নিজের লেখা একটি কবিতা আবৃত্তি করেন। কবিতার প্রতিটি পঙ্‌ক্তিতে কলেজের প্রতি তার ভালোবাসা, স্মৃতি ও আবেগের প্রতিফলন ঘটলে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অতিথিদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে বিদায়ী শিক্ষককে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়।