সর্বশেষ
কাতারে জুড়ী প্রবাসীদের বাৎসরিক বনভোজন ও মিলনমেলা সম্পন্ন লাঠিটিলার সংরক্ষিত বনভূমি দখল ও বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগ, ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ যশোর সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ০২জন আসামীসহ মাদকদ্রব্য এবং চোরাচালানী মালামাল আটক শেরপুরে আইবিডব্লিউ এফের ব্যবসায়ী সমাবেশ অনুষ্ঠিত, অংশ নিলেন পাঁচ উপজেলার তিন শতাধিক ব্যবসায়ী, কুবি প্রেস ক্লাবের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু রাজশাহী বইমেলায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীর ভিড় দর্শনার্থীর ভিড়, বই বিক্রিতে হতাশা শেরপুরে জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন গ্রেপ্তার ৫ জন রাজশাহী সিমান্তে ভারতীয় মদ, ট্যাবলেট ও চোরাচালানি পণ্য জব্দ পুলিশ পরিচয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ছিনতাইকারী সন্দেহে তিনজনকে ক্যাম্পাসে এনে প্রক্টর অফিসে সমঝোতা চট্টগ্রামে টিচার্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

পুলিশ পরিচয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ছিনতাইকারী সন্দেহে তিনজনকে ক্যাম্পাসে এনে প্রক্টর অফিসে সমঝোতা

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

 

 

কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের আচরণে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তাঁর বন্ধু অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁদের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তাঁদের পরিচয় জানা যায়, তিনজনের মধ্যে একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা। অপর দুজনের একজন কনস্টেবল হানিফ এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পরে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাঁদের পরিচয় পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ তিনজন এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। তাঁদের মধ্যে একজন অর্পের শার্টের কলার ধরে বলেন, “আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।” বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তাঁরা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি, তা জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তাঁরা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাঁদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

তবে এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাঁদের পরিচয় দিতে চাননি। তাঁদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তাঁরা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাঁদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।’

এ সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন যদি শিক্ষার্থীরা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিলেও বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়ে যেত। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয়

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পুলিশ পরিচয়ে কুবি শিক্ষার্থীদের তল্লাশি, ছিনতাইকারী সন্দেহে তিনজনকে ক্যাম্পাসে এনে প্রক্টর অফিসে সমঝোতা

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

 

 

কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁদের আচরণে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে তিনজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ক্যাম্পাসে নিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টিউশন শেষে রেসকোর্স এলাকার একটি গলি দিয়ে ফেরার পথে পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম ও তাঁর বন্ধু অর্পের পথরোধ করেন তিন ব্যক্তি। তাঁরা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে শিক্ষার্থীদের তল্লাশি শুরু করেন। এ সময় পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা পরিচয় দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এমনকি পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে অন্য শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পরে ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে ছিনতাইকারী সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন শিক্ষার্থীরা। বাস থেকে নামানোর পর তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরে তাঁদের প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করা হয়। সেখানে তাঁদের পরিচয় জানা যায়, তিনজনের মধ্যে একজন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) শ্যামল সাহা। অপর দুজনের একজন কনস্টেবল হানিফ এবং অন্যজন পুলিশের সোর্স জাহিদ।

পরে প্রক্টর অফিসে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস তাঁদের পরিচয় পুলিশ সদস্য হিসেবে নিশ্চিত করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে সমঝোতা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সিফাত হোসেন সিয়াম বলেন, ‘আমি আর আমার বন্ধু অর্প হাঁটছিলাম। অর্প একটু সামনে ছিল। হঠাৎ তিনজন এসে আমাদের ঘিরে ধরেন। তাঁদের মধ্যে একজন অর্পের শার্টের কলার ধরে বলেন, “আমরা পুলিশ, আপনাদের চেক করব।” বলার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি অর্পের পকেটে হাত দেন। পরে তাঁরা আমাদের পরিচয় ও কোথায় থাকি, তা জানতে চান। আমরা নিজেদের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আইডি কার্ড দেখাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাঁদের আইডি কার্ড দেখাতে বললে তাঁরা তা না দেখিয়ে বারবার হ্যান্ডকাফ দেখাচ্ছিলেন। একপর্যায়ে একজন স্থানীয় ব্যক্তি এসে বলেন, পুলিশ হলেও এভাবে আচরণ করা উচিত নয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস এলে তাঁদের ওই বাসে করে ক্যাম্পাসে নিয়ে আসি।’

তবে এএসআই শ্যামল সাহার ভাষ্য, তাঁরা দুই শিক্ষার্থীকে দেখে তাঁদের পরিচয় জানতে চেয়েছিলেন। শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়ার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং দুঃখ প্রকাশ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিচয় জানতে চাইলে তাঁরা ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখান। পাশাপাশি ডিউটিতে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এখানে উভয় পক্ষেরই কিছু ভুল ছিল। পুলিশ সদস্যরাও তাঁদের পরিচয় দিতে চাননি। তাঁদের কাছে আইডি কার্ড ছিল না। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদেরও ভুল ছিল। তাঁরা যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অথবা আমাদের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানাতেন, তাহলে ভালো হতো। তা না করে জোরপূর্বক তাঁদের ক্যাম্পাসে নিয়ে আসা উচিত হয়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আমরা একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছেছি। উভয় পক্ষই সেটি মেনে নিয়েছে। ভবিষ্যতে আমাদের প্রত্যাশা, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যেন আর না ঘটে।’

এ সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, ‘উভয় পক্ষেরই ভুল ছিল। ঘটনাস্থলে যা হয়েছে, তখন যদি শিক্ষার্থীরা কোনো পুলিশ কর্মকর্তা বা থানায়, এমনকি ৯৯৯-এ কল দিলেও বিষয়টি সেখানেই সমাধান হয়ে যেত। ৫ আগস্টের পর থেকে একটা মব কালচারের রেশ ছিল। সেখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিতভাবে সমঝোতা সম্পন্ন হয়